কোকেনকাণ্ডে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং ও সঙ্গী জিতেন্দ্র সিং, আজই পেশ করা হবে আদালতে

কোকেনকাণ্ডে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং ও সঙ্গী জিতেন্দ্র সিং, আজই পেশ করা হবে আদালতে
কোকেনকাণ্ডে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং ও সঙ্গী জিতেন্দ্র সিং, আজই পেশ করা হবে আদালতে / ছবি সৌজন্যে- Facebook Posted By @bjprsingh

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দিনভর নাটকের পর অবশেষে রাতে কোকেনকাণ্ডে নাম জড়ানো বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-কে গ্রেফতার করা হয় গলসিতে। গতকালই এই খব জানার পর, কলকাতা পুলিশের আধিকারিকে একটি দল গলসির উদ্দেশে রওনা দেয়।

এবার মাদককাণ্ডে রাকেশ সিং ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর সঙ্গী জিতেন্দ্র সিংকেও। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পামেলা কাণ্ডে এই জিতেন্দ্র সিংও জড়িত রয়েছে। জানা গিয়েছে যে, কলকাতা পুলিশ আজ ভরেই তাঁকে নিয়ে কলকাতায় ফিরেছে। আজই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।

মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ লালবাজারে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। সেই কারণে সিআপরিসি-র ১৬০ নম্বর ধারায় নোটিশ পাঠায় পুলিশ। কিন্তু এদিন হাজিরা দিতে পারবেন না বলে সকালেই জানান বিজেপি নেতা। এরপর থেকেই পুলিশ রাকেশ সিং-এর খোঁজ শুরু করে। উল্লেখ্য, গতকাল সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অরফনগঞ্জ। রাকেশ সিংকে হাজিরা দেওয়ার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল লালবাজার থেকে, সেই নির্দেশ-এর বিরুদ্ধে রাকেশ সিং হাইকোর্টে যান। তিনি এই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। যদিও যদিও সেই আবেদন নাকচ হয়ে যায়। সম্ভবত এর পরেই দিল্লি যাওয়ার নাম করে, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। তেমনটাই পুলিশ মহলের প্রাথমিক ধারণা।

এদিকে হাইকোর্টে রাকেশের আবেদনের পরেই পুলিশ আধিকারিকরা বুঝে গিয়েছিলেন যে, রাকেশ সিং-এর নাগাল পাওয়া খুব একটা সহজ কাজ হবে না। তাই আচমকাই মঙ্গলবার দুপুরে রাকেশ সিং-এর বাড়িতে হাজির হয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। কিন্তু তাঁদের ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়। প্রথমে তাঁদের ঢুকতে বাঁধা দেয় সিআইএসএফ। এরপর রাকেশ সিং-এর পুত্র আসরে নামেন। ক্রমাগত পুলিশের আধিকারিকদের বাঁধা দিতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশের কাছে কোনও সার্চ ওয়ারেন্ট বা যথাযথ কোনও নথি ছিল না। এই নিয়ে দুই তরফে শুরু হয় বচসা। স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি উতপ্ত হয়ে ওঠে।

যদিও বিকেল ৫ টা নাগাদ, পুলিশ আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে সমর্থ হন। তিনঘণ্টা ধরে তল্লাশি চলে। সন্ধের দিকে পুলিশের কাজে ক্রমাগত বাধা দেওয়ার জন্য রাকেশ সিং-এর দুই ছেলে সাহেব এবং শুভমকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদেরও গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার থেকেই রাকেশ সিং-এর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। সূত্রের খবর, প্রথমে মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন দেখে তাঁর অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুপুরের দিকে রাকেশ সিং-এর ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়।

বিজেপি নেতা দিল্লি যাওয়ার কথা বলায়, মঙ্গলবার, অর্থাৎ গতকাল বিমানবন্দরে হাজির ছিল পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিমানে না গিয়ে, জাতীয় সড়ক ধরে ভুবনেশ্বর হয়ে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-এর। এসবের মধ্যেই পুলশি জানতে পারে যে, রাকেশ সিং দিল্লি যাননি। এরপর পুলিশ আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন জেলায় খবর যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে হাইওয়ের ওপর নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। সেইসময় তারা একটা গাড়ি আটকায়। সেই গাড়িতেই ছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। সঙ্গে তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরাও ছিলেন। সেখানেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রাতেই কলকাতা থেকে পুলিশ আধিকারিকদের একটি দল গলসির উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কোকেনকাণ্ডে বিজেপি নেত্রী পামেলা গ্রেফতার হওয়ার পর, তিনি অভিযোগ করেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। পুলিশের কাশে তিনি এই মর্মে বয়ান দেন বলেও জানা গিয়েছিল। পামেলার অভিযোগের পর, আসলে নামেন রাকেশ সিং। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ পামেলাকে দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে মেল করে জানান যে, এর পর যদি প্রকাশ্যে মাদক মামলায় পামেলা তাঁর নাম নেন, তা হলে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবেন।