বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

রাজ্যে চালু হচ্ছে 'দুয়ারে রেশন'! কবে থেকে শুরু এই প্রকল্প? জেনে নিন বিস্তারিত

০১:৩৮ পিএম, নভেম্বর ২, ২০২১

রাজ্যে চালু হচ্ছে 'দুয়ারে রেশন'! কবে থেকে শুরু এই প্রকল্প? জেনে নিন বিস্তারিত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতোই রাজ্যে শুরু হচ্ছে 'দুয়ারে রেশন'। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকেই চালু হতে চলেছে এই প্রকল্প। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ক যাবতীয় আগাম কাজ শুরু করে দিয়েছে খাদ্য ও বন্টন বিভাগ। তবে রেশন ডিলারের একাংশ এখনও এই প্রকল্প নিয়ে অনীহা দেখাচ্ছেন। আদালতের দারস্থও হয়েছিলেন তাঁরা। তবে তাঁদের সেই আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত৷ ফলে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পরিকল্পনামাফিক দুয়ারে রেশনের প্রকল্প শুরু করতে চলেছে রাজ্য৷

তবে রাজ্য জুড়ে দুয়ারে রেশনের এই প্রকল্প চালু হলেও ভৌগোলিক কারণে পাহাড়ের দুই জেলায় তা এখন চালু হবে না। পাশাপাশি সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চলের একাংশেও এই প্রকল্প নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সেখানেও আপাতত শুরু করা যাচ্ছে না দুয়ারে রেশন৷ তবে আপাতত যেসব জায়গায় প্রকল্প চালু করা সম্ভব সেসব জায়গায় পণ্য মেপে, ই-পস মেশিনে নথিভুক্ত করে তবেই তা দেওয়া হবে গ্রাহকদের। জানা গিয়েছে, চলতি মাসেই রাজ্যের প্রায় ৩১০০ ডিলারদের নিয়ে চালু হবে দুয়ারে রেশন প্রকল্প। এই প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানিয়েছেন, "আগে মাঠে নেমে কাজ শুরু হোক। তারপরে কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা বোঝা যাবে। এখন শুধু সমস্যা দেখতে গেলে কোনও কাজ হবে না।" তাই যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্প শুরু করার কাজে হাত লাগাতেই চাইছে রাজ্য। কীভাবে এই কাজ হবে তা নিয়ে আগামীকাল, বুধবার রেশন ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন খাদ্যমন্ত্রী।

[caption id="attachment_38222" align="alignnone" width="1280"]রাজ্যে চালু হচ্ছে 'দুয়ারে রেশন'! কবে থেকে শুরু এই প্রকল্প? জেনে নিন বিস্তারিত / প্রতীকী ছবি রাজ্যে চালু হচ্ছে 'দুয়ারে রেশন'! কবে থেকে শুরু এই প্রকল্প? জেনে নিন বিস্তারিত / প্রতীকী ছবি [/caption]

অন্যদিকে, এই প্রকল্প ঘিরে শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন রেশন ডিলারদের একাংশ। রেশন ডিলারদের জয়েন্ট ফোরামের তরফে ‘দুয়ারে নয়, দোকানে রেশন'-এর পাল্টা প্রচার শুরু হয়েছিল। সংগঠনের বক্তব্য, সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ শতাংশ পাইলট প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন ডিলাররা। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। এমনকি বাড়িতে রেশন নেওয়ার ব্যাপারে অনেক গ্রাহক অনীহাও প্রকাশ করেন৷ পাইলট প্রজেক্ট হিসাবেই কাজ শুরু করছে রাজ্যের দুয়ারে রেশন প্রকল্প। তবে বেশ কিছু বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলেই জানাচ্ছেন রেশন ডিলারদের সংগঠন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে এই পাইলট প্রজেক্ট কার্যকর করা সম্ভব নয় বলেও দাবি তুলেছেন জয়েন্ট ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর। তিনি এও জানিয়েছেন, "যারা শারীরিক ভাবে সক্ষম নয়। তাদের রেশন দিতেই আমরা বাড়িতে যাব। নচেৎ নয়।" তবে রাজ্য সকলের দুয়ারেই রেশন দিতে আগ্রহী। এরই মধ্যে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা কমিশন বাড়াল রেশন ডিলারদের সংগঠন। বায়োমেট্রিক করতে হলে কুইন্টাল প্রতি মিলবে আরও ২৫ টাকা। এখন প্রতি কুইন্টালে ৭৫ টাকা করে কমিশন পাওয়া যায়৷ ডিলারদের দাবি অনুযায়ী সব মিলিয়ে ২০০ টাকা চাওয়া হলেও আপাতত ১২৫ টাকায় রফা হয়েছে৷ রাজ্য সরকারের তরফে নোটিফিকেশন জারি করে এই বিষয়ে জানানোও হয়েছে।

তবে কমিশন বাড়লেও তা এখনও মনঃপূত নয় রেশন ডিলার ফোরামের। পাশাপাশি দুয়ারে রেশন প্রকল্পে ঘরে ঘরে রেশন নিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রয়োজন গাড়ি। আর এই গাড়ি কেনার জন্যে অর্থ কে দেবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে মতান্তর। যদিও খাদ্যমন্ত্রীর দাবি, গতিধারা প্রকল্পের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। সেই টাকার সঙ্গে ডিলাররা নিজেরা টাকা যোগ করে গাড়ি কিনতেই পারেন। সেই গাড়ি তাঁরা অন্য কাজেও লাগাতে পারবেন। যদিও এ নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি।