মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! বাইকে করেই করোনায় মৃত মায়ের দেহ শ্মশানে নিয়ে গেলেন ছেলে-জামাই

মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! বাইকে করেই করোনায় মৃত মায়ের দেহ শ্মশানে নিয়ে গেলেন ছেলে-জামাই
মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! বাইকে করেই করোনায় মৃত মায়ের দেহ শ্মশানে নিয়ে গেলেন ছেলে-জামাই

করোনার দাপটে দেশের বর্তমান অবস্থা বেহাল। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। দিকে দিকে মিলছে না হাসপাতালের বেড বা ভ্যাকসিন। অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। হাতে বিকল্প না থাকায় নিরুপায় হয়ে হাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকেরাও। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন দেশের শত শত মানুষ। চিতার আগুন যেন নিভছেই না…

দেশের এই পরিস্থিতিতেই সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল আরেক ঘটনার দৃশ্য, যা দেখে রীতিমতো শিউড়ে উঠেছেন দেশবাসী। অনেক খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি অ্যাম্বুলেন্স। মেলেনি অন্য কোনও গাড়িও। ফলে বাধ্য হয়েই করোনায় মৃত মাকে বাইকে করেই শ্মশানে নিয়ে গেলেন ছেলে আর জামাই। যাওয়ার পথে মাথায় উঠল কোভিড বিধির নিয়ম! বলাই বাহুল্য, সেসব কিছুই মানা সম্ভব হয়নি।

মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী রইল অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম। সেখানের মাণ্ডাসা নামে ওই মহিলার বেশ কিছুদিন ধরেই করোনার উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। চিকিৎসার জন্য সোমবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু পজিটিভ রিপোর্ট সঙ্গে না থাকায় সামান্য চিকিৎসাও জোটেনি। চিকিৎসার অভাবে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার আগেই মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৫০।

এই অবস্থায় শেষকৃত্যের জন্য মাণ্ডাসাকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ায় প্রস্তুতি নেন তাঁর ছেলে এবং জামাই। কিন্তু অনেক খুঁজেও অ্যাম্বুলেন্সের হদিশ মেলে না। অন্য গাড়িও অমিল। ফলে বাধ্য হয়েই মাণ্ডাসার মরদেহ নিয়ে বাইকে করে শ্মশানের পথে রওনা দেন তাঁরা। খোলা রাস্তা দিয়েই করোনায় মৃতকে শ্মশানে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মানা হয়নি কোনও কোভিড বিধিও। বর্তমানে দেশের এই এই পরিস্থিতি যেন বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে, আমরা আজ কত অসহায়! দেখাচ্ছে, দিন দিন কীভাবে বিষিয়ে উঠছে দেশের বাতাস। শোনা যাচ্ছে আর্তনাদ! এর শেষ যে কবে, তা কেই বা জানে!

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.