নির্মম দৃশ্য! সিটবেল্ট দিয়ে মেয়ের মৃতদেহ বেঁধে ৮৫ কিমি গাড়ি চালিয়ে শ্মশানে পৌঁছালেন বাবা

নির্মম দৃশ্য! সিটবেল্ট দিয়ে মেয়ের মৃতদেহ বেঁধে ৮৫ কিমি গাড়ি চালিয়ে শ্মশানে পৌঁছালেন বাবা
নির্মম দৃশ্য! সিটবেল্ট দিয়ে মেয়ের মৃতদেহ বেঁধে ৮৫ কিমি গাড়ি চালিয়ে শ্মশানে পৌঁছালেন বাবা

করোনার দাপটে দেশের বর্তমান অবস্থা বেহাল। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। দিকে দিকে মিলছে না হাসপাতালের বেড বা ভ্যাকসিন। অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। হাতে বিকল্প না থাকায় নিরুপায় হয়ে হাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকেরাও। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন দেশের শত শত মানুষ। চিতার আগুন যেন নিভছেই না…

দেশের এই পরিস্থিতিতেই সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল আরেক ঘটনার দৃশ্য, যা দেখে রীতিমতো শিউড়ে উঠেছেন দেশবাসী। কোভিডে মৃত্যু হয়েছে মেয়ের৷ অনেক খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি অ্যাম্বুলেন্স। যেগুলো পাওয়া গিয়েছে যা দর চাওয়া হয়েছে তা দেওয়া বাবার পক্ষে সম্ভব নয়৷ অগত্যা গাড়ির সামনের সিট বেল্টে মেয়ের মৃতদেহ বেঁধেই ৮৫ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে শ্মশানে নিয়ে গেলেন বাবা।

মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী রাজস্থানের কোটা শহর৷ জানা গিয়েছে, কোভিড আক্রান্ত হয়ে ২৪ এপ্রিল কোটারই এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সীমা নামের মেয়েটি। রবিবারই তিনি মারা যান। এরপর তাঁর মৃতদেহ কোটা থেকে ঝালওয়ার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করতেই ভাড়া শুনে মাথায় হাত পড়ে পরিবারের।

পরিবার জানিয়েছেন, রাজস্থান থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরত্ব নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া চেয়েছিল ১৬ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সেই টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই উপায়ন্তর না পেয়ে নিজের গাড়িতে মেয়ের মৃতদেহ চাপিয়েই শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বাবা। কাঁদতে কাঁদতে ৮৫ কিমি গাড়ি চালিয়ে শ্মশানেও পৌঁছালেন। যদিও এই দৃশ্য ভাইরাল হতেই টনক নড়েছে প্রশাসনের। বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।