অন্যরকম দুর্গা পুজো! রাত পোহালেই পুজো শুরু বীরভূমের এই দুই পরিবারে

অন্যরকম দুর্গা পুজো! রাত পোহালেই পুজো শুরু বীরভূমের এই দুই পরিবারে
অন্যরকম দুর্গা পুজো! রাত পোহালেই পুজো শুরু বীরভূমের এই দুই পরিবারে

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুজো আসতে এখনও বেশি না হলেও কয়েকটা দিন বাকি। তবে, এখানে রাত পোহালেই শুরু হয়ে যাবে মা দুর্গার পুজো। বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুড়ি গ্রামের দুই পরিবারে। এই দুই পরিবার হলো চট্টোপাধ্যায় এবং রায় পরিবারে পুজোর আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে মা দুর্গার আরাধনা। সময়ের আগেই এই দুই পরিবারে উমা আসেন সপরিবারে।

আগামিকাল অর্থাৎ বুধবারই রয়েছে এই দুই পরিবারে মায়ের বোধন। এই বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই এই দুই পরিবারে দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যায়। এই দুই পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই রীতি। এই রীতি অনুসারে এই দুই পরিবারে পুজো শুরু হয় কৃষ্ণপক্ষের নবমীতে। যা দুর্গা পুজোর মহানবমীর ঠিক একপক্ষ কাল আগে উমা আসেন এই দুই পরিবারে। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজো। পুজোর ১৫ দিন আগে এই দুই পরিবারে পুজো শুরু হওয়ার রীতি চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

বুধবার অর্থাৎ আগামিকাল কৃষ্ণপক্ষের নবমীর শুভ তিথিতে রীতি মেনে, এই দুই পরিবার যমুনা সায়র পুষ্পরনী থেকে মঙ্গলঘট নিয়ে মা দুর্গার পুজো শুরু করে দেবে। এই দৃশ্য অন্যান্য পুজোগুলির ক্ষেত্রে মহাসপ্তমীর সকালের দেখা যায়, যেদিন নবপত্রিকা স্নানের জন্য শোভাযাত্রা করা হয়। তবে, এই দুই পরিবারের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম। চট্টোপাধ্যায় পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুজো আরম্ভ করেছিলেন কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায় ১১১১ বঙ্গাব্দে। তিনি রাজনগরের নবাবের দেওয়ান ছিলেন। তৎকালীন বীরভূমের রাজধানী ছিল রাজনগর। রাজনগরের নবাব আলিনকি খান সুচারুভাবে দুর্গাপুজো চালানোর জন্য ৬৪ বিঘা জমি, ৭ টি পুকুর এবং একটি বড় পুস্করনী দান করেন। তারপর থেকেই রীতি মেনে কৃষ্ণপক্ষের নবমীতে দুর্গা মায়ের বোধনের মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এই পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে চলে আসছে।

আবার অন্যদিকে, রায় পরিবারের পুজোর শুরু সম্পর্কে জানা গিয়েছে, বালিজুড়ি গ্রামের সবথেকে প্রাচীন পুজো হল এই রায় পরিবারের পুজো। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে এক কাপালিক এই পুজো আরম্ভ করেন। তারপর থেকেই রীতি মেনে, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে পুজো হয়ে আসছে। রায় পরিবার কৃষ্ণপক্ষের নবমীতে যমুনা সায়র থেকে ঘটা করে রায় পরিবারের দুর্গাপুজোর মঙ্গলঘট আনা হয়। এরপর থেকেই দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয় এবং চলে বিজয়া দশমী পর্যন্ত।