আজ থেকে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ছে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন, যাত্রী বিক্ষোভের জেরে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা

আজ থেকে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ছে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন, যাত্রী বিক্ষোভের জেরে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা
আজ থেকে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ছে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন, যাত্রী বিক্ষোভের জেরে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অফিস যাত্রীদের জন্য রয়েছে সুখবর, করোনা অতিমারি পরিস্থিতিতে অফিস যাত্রীদের সুবিধা দিতেই, আজ থেকে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ানো হচ্ছে স্টাফ স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ট্রেন যাত্রা আরও কিছুটা সুগম হওয়ার পাশাপাশি ভিড়ও কম হবে বলেই ধারণা পূর্ব রেলের।

জানা গিয়েছে, আজ অন্যদিনের থেকে আরও ৪০ টি বেশি ট্রেন চলবে শিয়ালদহ ডিভিশনে। আজ মোট ২৯০ টি ট্রেন চলবে। সোমবার থেকে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। সোমবার থেকে আরও ৬০ টি অতিরিক্ত ট্রেন চলবে ওই ডিভিশনে। এর জেরে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে হবে প্রায় সাড়ে তিনশোটি। সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং দুর্ভোগ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত বলেই জানাচ্ছে রেল।
পাশাপাশি লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে, পরপর দু’দিন অবরোধ-বিক্ষোভ পরই, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে রেলের তরফে। বিক্ষোভের জেরে প্রত্যেক স্টেশনে বাড়ানো হল রেলপুলিশের সংখ্যা। শুক্রবার সকাল থেকেই স্টেশনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পুলিশি টহলদারি। শুক্রবার সকালে থেকে সোনারপুর, মল্লিকপুর ,চম্পাহাটি, ঘুটিয়ারি শরিফ, বেতবেড়িয়া স্টেশনে মোতায়েন হয়েছে বাড়তি GRP ও RPF।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ট্রেন চালানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই বুধ এবং বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে অবরোধ এবং বিক্ষোভ হয়। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সোনারপুর, ঘুটিয়ারি শরিফ-সহ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার একাধিক স্টেশনে রেল অবরোধ করা হয়। সোনারপুরে অবরোধের কারণে দাঁড়িয়ে পড়ে ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলায় জারি থাকছে কড়া বিধিনিষেধ। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। করোনা অতিমারির জেরে বন্ধ রাখা হয়েছে লোকাল ট্রেন। ফের আবার কবে নাগাদ চলবে লোকাল ট্রেন, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে সরকারি এবং বেসরকারি অফিসে কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে, গণপরিবহন ব্যবস্থা একদিকে যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনই অধিকাংশ বেসরকারি সংস্থা তাঁদের কর্মীদের যাতায়াতের জন্য কোনও ব্যবস্থা করেনি। মেট্রো পরিষেবা চালু হলেও, একাধিক শর্ত মানতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন অফিসে পৌঁছানই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকাও খরচ হচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।

এহেন অবস্থায় সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, সবরকম করোনা সতর্কতা মেনে লোকাল ট্রেন চালু করা হোক। কিছু মানুষের জন্য ট্রেন চলবে, আর কিছু মানুষ কাজে যেতে পারবেন না ট্রেনে, এই বিভাজন অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। প্রত্যেক মানুষেরই পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কাজে যেতে হবে, তবে, তার জন্য ট্রেন চালু হওয়া আবশ্যিক এই মুহূর্তে, বিশেষ করে যখন করোনা সংক্রমণ রাজ্যে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। লোকাল ট্রেন চালু করা না গেলে, অন্তত স্টাফ স্পেশালে উঠতে দেওয়া হোক। এই দাবিতেই বুধবারের পর বৃহস্পতিবার ফের রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা।

এদিকে রেলসূত্রে খবর, লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করার আবেদন জানিয়ে, এর আগেই পরিবহণ সচিবকে চিঠি দিয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব রেল। রেলের তরফে বলা হয়েছে, স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। এর ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তবে, রেলের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, লোকাল ট্রেন পরিষেবা কবে নাগাদ চালু করা হবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে বৃহস্পতিবার অবরোধের পর, ফের মুখ্যমন্ত্রী কাছে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি জানানো হলে, তিনি তা খারিজ করে দেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হলেও, আপাতত লোকাল ট্রেন চালু করার কোনও সম্ভবনা নেই। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেছেন যে, ‘কোভিড পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ট্রেন চলাচল শুরু করলেই তা ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া রাজ্যে অন্যান্য পরিবহণ তো সীমিত সংখ্যায় চলছেই। অনেক শিথিল করা হয়েছে সব কিছু।’ এর থেকেই পরিষ্কার যে, এখনই লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার কোনও সম্ভবনা নেই।