বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে, শেষ তিন দফার ভোট কি তবে এক দফায়? জরুরি বৈঠকে নির্বাচন কমিশন

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে, শেষ তিন দফার ভোট কি তবে এক দফায়? জরুরি বৈঠকে নির্বাচন কমিশন
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে, শেষ তিন দফার ভোট কি তবে এক দফায়? জরুরি বৈঠকে নির্বাচন কমিশন / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচন ৮ দফায়। ইতিমধ্যেই ৪ দফার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সামনেই পঞ্চম দফার ভোট, ১৭ এপ্রিল। বাকি থাকছে আরও তিন দফার ভোট। এদিকে রাজ্যে প্রতিদিন রেকর্ড হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। তার সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। সুস্থতার হারও কম। তাছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রার্থীরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন এক এক করে। আজই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হকের। এর জেরে স্থগিত হয়ে গেছে সামশেরগঞ্জের বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯২ জন।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সমস্ত পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে বসেছেন নতুন নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্র। বৈঠকে সিইও রয়েছেন বলেও জানা গেছে। কমিশনের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য শেষ তিন দফার ভোট এক দফায় করতে পারে নির্বাচন কমিশন৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলেও সূত্রের খবর। এও জানা গিয়েছে যে, জানা গিয়েছে যে, তিন দফার ভোট এক দফায় করতে হলে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিন্যাস কেমন হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে আগামীকাল, অর্থাৎ শুক্রবার বর্তমান করোনা আবহে ভোট পরিচালনা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও)। কমিশনের তরফে রাজ্যের ১০টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি লিখে এ কথা জানানো হয়েছে। ১৬ এপ্রিল, শুক্রবার, দুপুর ২টোর সময় কমিশনের রাজ্য দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে তাঁদের। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি দল থেকে ১ জন করে প্রতিনিধি যাবেন এই বৈঠকে। কোভিড বিধির কথা মাথায় রেখেই, এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নয়, শুক্রবারের বৈঠকে এডিজি আইনশৃঙ্খলা জগমোহন ও স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবারই সামশেরগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থীর করোনা ধরা পরে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথমে জঙ্গীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল৷ পরে, বুধবার রাতে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সেখানেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে এদিন ভোরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হোক। শুধু রেজাউল হকই নন, জানা গিয়েছে, তাছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রের একাধিক প্রার্থী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার জেরেই ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর কেন্দ্রের আরএসপি প্রার্থী প্রদীপ নন্দী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে শিলিগুড়ির হাসপাতালে ভর্তি জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ কুমার বর্মাও৷ নদিয়ার করিমপুরের বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্র নাথ ঘোষও করোনায় আক্রান্ত৷ এখানেই শেষ নয়, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গোয়ালপোখোরের তৃণমূল প্রার্থী গোলাম রব্বানিও৷ তৃণমূল প্রার্থী কল্পনা কিস্কুও সংক্রামিত হয়েছেন৷

রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রার্থীরা একের পর এক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এহেন জটিল পরিস্থিতিতে বাকি ৪ দফার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে চিন্তায় নির্বাচন কমিশন। আর তাই এই বিষয়ে আলোচনা করতেই শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও প্রচারে জমায়েত কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না, এদিকে এইসব জমায়েতে যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনাবিধি। মাস্ক পরা বা শারীরিক দূরত্ববিধি কোনও কিছুই মানা হচ্ছে না। এই অভিযোগ তুলে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রচারের সময় যাতে কোভিড গাইডলাইন মেনে চলা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকেই। মাস্ক পরা, নির্দিষ্ট দূরত্ববিধি মেনে চলার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পরেই বৈঠক ডাকা হয়েছে কমিশনের তরফে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে, বাকি চার দফার ভোট এক দফাতেই হোক৷ তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ট্যুইট করে বলেছেন, তাঁরা শুরুতেই আট দফায় নির্বাচনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন। আবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদাসীন নির্বাচন কমিশন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.