বাংলায় নির্বাচনের আগেই আসছে Booth App! কী এই Booth App? জেনে নিন বিস্তারিত

বাংলায় নির্বাচনের আগেই আসছে Booth App! কী এই Booth App? জেনে নিন বিস্তারিত
বাংলায় নির্বাচনের আগেই আসছে Booth App! কী এই Booth App? জেনে নিন বিস্তারিত / ছবি সৌজন্যে- Facebook Post By @ECI

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ সামনেই বিধানসভা নির্বাচন বাংলায়। ইতিমধ্যেই ভোটের দামামা বেজে গেছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে প্রচারে। ভোটের আবহে বাংলার রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। এর মধ্যে আবার নতুন চমক দিতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কী সেই চমক জেনে নেওয়া যাক।

সূত্রের খবর, এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে Booth App ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন। যার জন্য ইতিমধ্যেই প্রিজ়াইডিং অফিসারদের এই Booth App নিয়ে প্রশিক্ষণও দিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষত, অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাজের সুবিধার জন্যই। ভোটের আগে থেকেই প্রত্যেক অফিসারের স্মার্টফোনে এই অ্যাপ ইন্সটল করা বাধ্যতামূলক বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। যদিও তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে Booth App চালু করার প্রক্রিয়া আপাতত ভাবনাচিন্তার পর্যায়েই রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ৫টি বুথে, এবং মহারাষ্ট্র, বিহার এবং পঞ্জাবের ৩টি বুথে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল এই Booth App। সে দিক থেকে দেখলে, এই অ্যাপ যদি এবারের নির্বাচনে বঙ্গে ব্যবহৃত হয়, তাহলে বাংলাই হবে প্রথম রাজ্য যেখানে এই অ্যাপ ব্যবহারের নজির সৃষ্টি হবে।

এবার আসা যাক এই Booth App-এর কাজ প্রসঙ্গে। এই Booth App ব্যবহারের অন্যতম এবং প্রধান লক্ষ্য হল, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেই, এবারের ভোট অনেকাটই প্রযুক্তি নির্ভর করা হচ্ছে। আর সেই প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এই Booth App। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এই Booth App। এই অ্যাপ পুরোপুরিভাবে এনক্রিপ্ট পদ্ধতিতে ভোটারদের কাছে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে দিতে সক্ষম।

এ প্রসঙ্গে কমিশন জানাচ্ছে, ভোটারদের কাছে যে ভোটার স্লিপ দেওয়া হবে, তাতে একটি QR Code থাকবে। প্রিজ়াইডিং অফিসারের ফোনে থাকা Booth App-এ সেই QR Code স্ক্যান করা হবে। এর ফলে আখেরে লাভ হবে প্রিজাইডিং অফিসারদেরই। কারণ এই QR Code স্ক্যান করার ফলে কাগজপত্র খুলে, তালিকা দেখে ভোটারদের নাম মেলানো ইত্যাদি ঝামেলা পোহাতে হবে না তাঁদের। আর এর ফলে সময়ও অনেকটাই সাশ্রয় হবে।

এছাড়া আরও বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে এই অ্যাপ ব্যবহারের। এই Booth App ব্যবহার করার ফলে প্রিজ়াইডিং অফিসারেরা একদিকে যেমন ভোটারদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য বিশদে জানতে পারবেন সহজেই অনেক কম সময়ে, ঠিক তেমনই আবার অন্যদিকে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার কাজটাও খুব সহজ হয়ে যাবে। এখানেই শেষ নয়। আরও আছে, কমিশনের তরফে এও জানানো হয়েছে যে, কোনও নির্দিষ্ট একটি বুথে নির্দিষ্ট সময় অন্তর মোট কত ভোট পড়ছে, তার সমস্ত খুঁটিনাটি জানিয়ে দেবে Booth App। আর সেই সব তথ্য রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যেকের জন্যই খুব জরুরি এবং সহজেই তাঁরা সেই তথ্যও পেয়ে যাবেন Booth App-এর সাহায্যে।

উল্লেখ্য, উক্ত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক অতি সহজে এই Booth App-এর কার্যকারিতা বোঝাতে বলেছেন যে, ভোটারের স্লিপে যে QR Code রয়েছে, তা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করার আগেই স্ক্যান করিয়ে নিতে হবে। এরপর ভোট দেওয়ার ঠিক আগেই দ্বিতীয়বারের জন্য আবারও স্ক্যান করাতে হবে QR Code। এতে ভোট দেওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তা চলে যাবে, যাতে প্রিজাইডিং অফিসারেরা এক্কেবারে সঠিক সময়ে ভোটের শতাংশ এবং যাবতীয় সব তথ্য পেয়ে যান। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন যে, ভোটার যখনই ভোট দেবেন, ঠিক তখনই একটি ‘বিপ’ সাউন্ডের মধ্যে দিয়ে প্রিজ়াইডিং অফিসারকে সতর্ক করবে এই Booth App।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.