রাজ্যে ৮ দফায় ভোট, শুরু ২৭ মার্চ! রইল ভোটের নির্ঘণ্ট

রাজ্যে ৮ দফায় ভোট, শুরু ২৭ মার্চ! রইল ভোটের নির্ঘণ্ট
রাজ্যে ৮ দফায় ভোট, শুরু ২৭ মার্চ! রইল ভোটের নির্ঘণ্ট / ছবি সৌজন্যে- Facebook Posted By @ECI / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সেই সঙ্গে অবসান ঘটল সব জল্পনা-কল্পনার। আজ দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল কুমার অরোরা। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ২ মে।

আগামী মাসের ২৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। ২৭ মার্চের পর পরের দফাগুলি যথাক্রমে ১ এপ্রিল, ৬ এপ্রিল, ১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল, ২২ এপ্রিল, ২৬ এপ্রিল এবং শেষ দফার ভোট গ্রহণ ২৯ এপ্রিল৷ ২ মে হবে ভোট গণনা এবং ফলপ্রকাশ৷ উল্লেখ্য, রাজ্যে গত বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭ দফায়। এদিকে এদিন যে পাঁচটি রাজ্যের ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছে, তার মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই হবে ৮ দফায় ভোটগ্রহণ। বাংলায় মোট ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬টি বুথে ভোট হবে। এদিকে ৩০ মে শেষ হচ্ছে বাংলা ও অসম বিধানসভার মেয়াদ।

এছাড়া অসমে ৩ দফায়, তামিলনাড়ু, কেরলে এবং পুদুচেরিতে সব আসনে ভোটগ্রহণ হবে একদিনেই। এদিন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদর্শ আচরণবিধিও লাগু হয়ে গেল৷ এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, রাজ্যের কবে কোথায় ভোট রয়েছে।

প্রথম দফাঃ ৩০ আসনে ভোট হবে ২৭ মার্চ। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর (প্রথম ভাগ), পূর্ব মেদিনীপুর (প্রথম ভাগ), পুরুলিয়া, বাঁকুড়া।

দ্বিতীয় দফাঃ ৩০ আসনে ভোট হবে ১ এপ্রিল। বাঁকুড়া (দ্বিতীয় ভাগ), পশ্চিম মেদিনীপুর (দ্বিতীয় ভাগ), পূর্ব মেদিনীপুর (দ্বিতীয় ভাগ), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (প্রথম ভাগ)।

তৃতীয় দফাঃ ৩১ আসনে ভোট হবে ৬ এপ্রিল। হাওড়া (প্রথম ভাগ), হুগলি (প্রথম ভাগ), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (দ্বিতীয় ভাগ)।

চতুর্থ দফাঃ ৪৪ আসনে ভোট হবে ১০ এপ্রিল। হাওড়া (দ্বিতীয় ভাগ), হুগলি (দ্বিতীয় ভাগ), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (তৃতীয় ভাগ), কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার।

পঞ্চম দফাঃ ৪৫ আসনে ভোট হবে ১৭ এপ্রিল। উত্তর ২৪ পরগনা (প্রথম ভাগ), নদিয়া (প্রথম ভাগ), দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, পূর্ব বর্ধমান (প্রথম ভাগ)।

ষষ্ঠ দফাঃ ৪৩ আসনে ভোট হবে ২২ এপ্রিল। উত্তর ২৪ পরগনা (দ্বিতীয় ভাগ), নদিয়া (দ্বিতীয় ভাগ), উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান (দ্বিতীয় ভাগ)।

সপ্তম দফাঃ রাজ্যে সপ্তম দফার ভোট হবে ২৬ এপ্রিল, ৩৬ আসনে। দক্ষিণ কলকাতা, মালদা (প্রথম ভাগ), মুর্শিদাবাদ (প্রথম ভাগ), পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর।

অষ্টম দফাঃ ৩৫টি আসনে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। আসনগুলি হল- উত্তর কলকাতা, মালদা (দ্বিতীয় ভাগ), বীরভূম।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণ অনুযায়ী, এবারে বাংলায় বিধানসভার নির্বাচন জঙ্গলমহলের জেলাগুলি দিয়েই শুরু হচ্ছে৷ প্রথম দুই দফাতেই জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে ভোট হবে৷ শুধুমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভোট হবেই তিন ভাগে৷ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন যে, মনোনয়ন জমা দিতে প্রার্থীর সঙ্গে দু’জনের বেশি নয় থাকা যাবে না। অন্যদিকে বাড়ি বাড়ি প্রচারের ক্ষেত্রে প্রার্থী-সহ সর্বোচ্চ পাঁচজন থাকতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক। পুলিশ পর্যবেক্ষক মৃণালকান্তি দাস ও বিবেক দুবে। আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক বি মুরলি কুমার। বলা হয়েছে, ভোট প্রচারে রোড শোয়ে একসঙ্গে ৫টির বেশি গাড়ি থাকবে না। নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যের পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে কাজ করবে। সব রাজ্যেই থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। বলা হয়েছে, ৫ রাজ্যে সব ভোটকেন্দ্র একতলায় থাকতে হবে।

অন্যদিকে, ৬ এপ্রিল পুদুচেরি, তামিলনাড়ু, কেরল এক দফাতেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সব রাজ্যেই ২ মে ভোট গণনা। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ খরচ ৩০.৮০ লক্ষ টাকা।

এবারের বিধানসভা ভোটের ক্ষেত্রে ভোটদানের সময়সীমা ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। বলা হয়েছে, চিহ্নিত করা হয়েছে স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রগুলি। সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বোর্ড পরীক্ষার কথা মাথায় রেখেই, ভোটের নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়েছে। ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন যে, করোনাবিধি মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আজ নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকে সুনীল অরোরা বলেন যে, করোনাকালে ভোটারদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। পাশাপাশি এও বলা হয় যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, রেলমন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট স্থির করা হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.