বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

সম্পর্ক না পেশা? কী কারণে এই পরিণতি? বিদিশা দে’র মৃত্যুরহস্য ঘিরে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২২, ১২:৪৫ পিএম | আপডেট: মে ২৬, ২০২২, ১২:৪৫ পিএম

সম্পর্ক না পেশা? কী কারণে এই পরিণতি? বিদিশা দে’র মৃত্যুরহস্য ঘিরে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সম্পর্ক না পেশা? কী কারণে এই পরিণতি? বিদিশা দে’র মৃত্যুরহস্য ঘিরে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বুধবার নাগেরবাজারের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় মডেল বিদিশা দে মজুমদারের ঝুলন্ত দেহ। তাঁর রহস্যমৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। যদিও সেসব প্রশ্নের উত্তর ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। এরই মাঝে উঠে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এটাই প্রথম নয়, এর আগেও দু-দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বিদিশা। ঘর থেকে পাওয়া তিন পাতার সুইসাইড নোটে একথা উল্লেখও করেছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও বান্ধবী ও সহকর্মীরা তাঁকে বাধা দেয়। এমনকি বুধবার ভোর-রাত পর্যন্তও বিদিশাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন তাঁরই এক বান্ধবী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি পেশাগত চাপ? ঠিক কোন কারণে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন অভিনেত্রী?

পুলিশ জানিয়েছে, সুইসাইড নোটে অবশ্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেননি বিদিশা। তিন পাতার লম্বা চিঠিতে বাবা, মা, বোন ও ঘনিষ্ঠদের নাম উল্লেখ করলেও মৃত্যুর জন্য কাউকেই দায়ী করেননি তিনি। কেবলমাত্র পেশাগত চাপের কারণেই আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। এর আগে দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও সাহস হয়ে ওঠেনি। অবশেষে পল্লবীর মতোই নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন বিদিশা।

অন্যদিকে বিদিশার পরিবারের দাবি, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তাঁদের মেয়ে। এই বিষয়ে বিদিশার বান্ধবীরা ইতিমধ্যেই নাগেরবাজার থানায় অনুভব বেরা নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, গত চার মাস ধরে অনুভব নামক ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন বিদিশা। অভিযোগ, বিদিশা ছাড়াও একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনুভব। সেই থেকেই বিদিশার মানসিক অবসাদ বাড়তে থাকে। সবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অভিনেত্রী। যদিও মডেলের পরিবারের পক্ষ থেকে অনুভবের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ করা হয়নি।

জানা গিয়েছে, বন্ধুদের কাছে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন বিদিশা। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। যে মডেলিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানেও যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন বিদিশা। এমনকি গত ৯ মে একটি ওয়ার্কশপে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যেতে পারেন না। ফল একটি বড় কাজও হাতছাড়া হয়।

সুইসাইড নোট বলছে, মাত্র ২১ বছর বয়সে বিদিশা জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যে লড়াই শুরু করেছিলেন সেই লড়াইয়ে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অন্যদিকে অভিনেত্রী বান্ধবীদের বয়ানও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। আত্মহত্যার পেছনে সত্যিই প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন অন্যতম কারণ কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে বিদিশার ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারছে না পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিদিশার দুটি মোবাইল ফোন সিজ করা হয়েছে। কল লিস্টের পাশাপাশি চ্যাট লিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বিদিশা মডেলিং ছাড়া আর কী কী কাজ করেছেন তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।