শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেলেন ঐন্দ্রিলা! অভিনেত্রীর মুখাগ্নি করেন তাঁর বাবা ও কাছের বন্ধু সব্যসাচী

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২২, ০৯:০৫ পিএম | আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২২, ০৯:১৪ পিএম

পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেলেন ঐন্দ্রিলা! অভিনেত্রীর মুখাগ্নি করেন তাঁর বাবা ও কাছের বন্ধু সব্যসাচী
পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেলেন ঐন্দ্রিলা! অভিনেত্রীর মুখাগ্নি করেন তাঁর বাবা ও কাছের বন্ধু সব্যসাচী

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০ দিনের লড়াই শেষে আজই প্রয়াত হয়েছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই চলে গেলেন তারকা তারাদের দেশে। রবিবার বিকেলে কেওড়াতলা শ্মশানে ঐন্দ্রিলা শর্মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হল। এদিন অভিনেত্রীর মুখাগ্নি করেন তাঁর বাবা উত্তম শর্মা এবং কাছের বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরী।

রবিবার বিকেল সওয়া ৫ টা নাগাদ ঐন্দ্রিলার কুঁদঘাটের বাড়িতে পৌঁছায় ঐন্দ্রিলার নিথর দেহ। সকলের আদরের ঐন্দ্রিলার অকাল প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই বিষাদের ছায়া তাঁর পাড়ায়। রবিবার বিকেলে ওই আবাসনের বাইরে এলাকার মানুষজনের ভিড় উপচে পড়ে। তত ক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, ঐন্দ্রিলা আর নেই। প্রত্যেকেই তখন অপেক্ষা করছেন, ছোট্ট মেয়েটাকে শেষ বারের মতো খুব কাছ থেকে দেখতে, তাঁকে শেষবারের মতো ছুঁতে।

এদিন জিয়ন কাঠি-খ্যাত অভিনেত্রীর বাবা কান্নাজড়ানো গলায় বলেন, ‘…মেয়েটাকে বাড়ি ফেরাতে পারলাম না।’ এদিকে সব্যসাচী যেন যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছেন। কোনও কথা নেই। সবই করছেন যন্ত্রের মতো। একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছেন। যেন সর্বহারা। যেন কিছুই আর ফিরে পাওয়ার নেই। যন্ত্রের মতো, নীরব বসে আছেন। ঐন্দ্রিলার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনিও। চোখের জলও বোধহয় শুকিয়ে গেছে তাঁর। এদিন হাসপাতালে ঐন্দ্রিলার নিস্তেজ দেহের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন তিনি। আবার শববাহী শকটের সামনের সিটেও ছিলেন তিনি। কাছের মানুষ, বন্ধুর শেষ যাত্রাতেও তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলেন ভালোবাসার মানুষটির। এদিকে, ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর খবর জানার পর থেকেই জল পর্যন্ত খাননি সব্যসাচী। একফোঁটা চোখের জলও ফেলেননি।

গত ১ নভেম্বর ঐন্দ্রিলার ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই তাঁর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন সব্যসাচী। হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতালেই থাকছিলেন ২৪ ঘণ্টা। শেষ পর্যন্ত ICU-তে ছিলেন। তাঁর লড়াইকে যখন কুর্নিশ জানাচ্ছে সকলে, সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মায়ের কিছু হলে বাবা যেটা করত, আমিও সেটাই করছি।’ এর জন্য তাঁকে আলাদা করে ক্রেডিট দেওয়ার দরকার নেই বলেই জানিয়েছিলেন বামাখ্যাপা খ্যাত সব্যসাচী।

এরপর বুধবার ঐন্দ্রিলা শর্মার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার পর থেকেই মুষড়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। একটা একটা করে হার্ট বিট কমে যাচ্ছিল। আর তাঁর বুক ভেঙে যাচ্ছিল এক চরম অসহায়তায়। তবু শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছেন তিনি, আশা ছাড়েননি। প্রত্যেক মুহূর্তে ভেবেছেন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, নিয়তির কাছে হার মানতেই হল।

রবিবার ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে পৌঁছে যান পরিচালক রাজ চক্রবর্তী-সহ টলিপাড়ার অন্যান্য কলাকুশলীরা। যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সেই সময় হাসপাতালের বাইরে ঐন্দ্রিলার অসংখ্য অনুরাগীর ভিড়। হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁর মরদেহ নিয়ে রওনা দেন অভিনেত্রীর মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যেরা। ঐন্দ্রিলার শেষযাত্রা শুরু হওয়ার আগে থেকে হাসপাতালে ছিলেন তাঁর প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরীও। আর ছিলেন ঐন্দ্রিলার বন্ধুবান্ধব-সহ টলিপাড়ায় তাঁর অসংখ্য অনুরাগী।

ঐন্দ্রিলার মরদেহ যখন এসে পৌঁছায় তাঁর কুদঘাটের বাড়িতে। তখনও সঙ্গে ছিলেন সব্যসাচী। উপস্থিত ছিলেন টলিপাড়ার অনেকেই। ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ফুলের সাজে, বেনারসি পরিয়ে দেওয়া হয়, ঠোঁটে লিপস্টিক, হালকা মেকআপে আদরের বোনকে সাজিয়ে দেন দিদি। যেন রাজকন্যার বিদায়। এদি শেষবিদায় জানাতে কাছে এসেছিল ঐন্দ্রিলার প্রিয় পোষ্যও। কান্নায় ভেঙে পড়েন আবাসনের বাসিন্দারা। আবাসনের নয়, সে যে ঘরের মেয়ে। বাড়ি পৌঁছানোর পর কিছুক্ষণের জন্য দেখা মেলেনি সব্যসাচীর। ঐন্দ্রিলাকে কাছের মানুষদের সঙ্গে ছেড়ে ভিতরে ঢুকে যান। তিনি মিরাকেল দেখতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা উঠে বসুক। ফিরে আসুক সুস্থ হয়ে। কিন্তু তেমনটা হল না।

এদিন শববাহী গাড়ির একদম সামনেই বসেছিলেন সব্যসাচী। যেন কিছুই আর ফিরে পাওয়ার নেই। যন্ত্রের মতো, নীরব বসে আছেন। ঐন্দ্রিলার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনিও। চোখের জলও বোধহয় শুকিয়ে গেছে তাঁর। এদিন ঐন্দ্রিলাকে ঘিরে রেখেছিলেন তাঁর আবাসনের এবং কাছের মানুষরা। শেষবারের মত চোখের জলে বিদায় দিতে এসেছিলেন তাঁদের আদরের মিষ্টিকে। এরপর যাওয়া হয় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। পরে সেখান থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ঐন্দ্রিলার।