শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

‍‍`তাড়াতাড়ি চলে আয় বোনু, তুই ছাড়া আমি পঙ্গু‍‍`, ফেসবুক পোস্টে কাতর আর্তি ঐন্দ্রিলার দিদির

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৩:০২ পিএম | আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৩:০২ পিএম

‍‍`তাড়াতাড়ি চলে আয় বোনু, তুই ছাড়া আমি পঙ্গু‍‍`, ফেসবুক পোস্টে কাতর আর্তি ঐন্দ্রিলার দিদির
‍‍`তাড়াতাড়ি চলে আয় বোনু, তুই ছাড়া আমি পঙ্গু‍‍`, ফেসবুক পোস্টে কাতর আর্তি ঐন্দ্রিলার দিদির

টানা ২০ দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কঠিন লড়াই লড়েছে আদরের বোন। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা যদিও জেতা হয়নি। রবিবার দুপুর ১২ঃ৫৯ মিনিটেই চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মারা যান তিনি। যে চলে যায়, সে কি আর ফিরে আসে? কিন্তু পরিবারের মন যে মানে না! তাই প্রিয় বোনের উদ্দেশ্যে ফেসবুক পোস্টে কাতর আর্তি জানালেন সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার স্ত্রী ঐশ্বর্য শর্মা।

ঐশ্বর্য নিজে চিকিৎসক। জানেন যে কীভাবে সকল চিকিৎসাকে হার মানিয়েই ওপারে চলে যেতে হয়েছে বোনকে। কিন্তু অকালে এভাবে বোনের চলে যাওয়া কি কোনও দিদি মেনে নিতে পারেন? ঐশ্বর্যও পারছেন না। যুক্তিতর্ক এখন সব তুচ্ছ তাঁর কাছে। আদরের বোনের প্রতি তাই তাঁর কাতর আর্জি, "অনেকদিন তো হল, এবার তাড়াতাড়ি চলে আই বুনু।"

এদিন ফেসবুকে নিজের সদ্য প্রয়াত বোনের সঙ্গে তোলা এক পুরনো ছবি শেয়ার করে ঐশ্বর্য লেখেন, “অনেকদিন তো হল, এবার তাড়াতাড়ি চলে আই বুনু। তুই ছাড়া আমি যে পঙ্গু। কে আমাকে সাজিয়ে দেবে বলতো? কে আমার ছবি তুলে দেবে? কে না বলা মনের কথাগুলো আমার মুখ দেখে বুঝে যাবে? কে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ এর মত আমার সমস্ত মনের ইচ্ছে পূরণ করবে? কার সাথে আমি ঘুরতে যাব? কার সাথে পার্টি করব? কার সাথে আমি সারারাত জেগে সিনেমা দেখবো গল্প করব? কে আমাকে সঠিক পরামর্শ দেবে? আমাদের এখন কত প্ল্যান বাকি আছে বলতো? কে আমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসবে? কে আমার জন্য পুরো পৃথিবীর সাথে লড়বে, আমাকে আগলে রাখবে?”

ঐন্দ্রিলাই ছিলেন ঐশ্বর্যর সবচেয়ে কাছে বন্ধু। সে কথা উল্লেখ করেও প্রয়াত অভিনেত্রীর দিদি লেখেন, “আমার যে তুই ছাড়া আর কোনও বেস্ট ফ্রেন্ড নেই। তুই যে আমার জীবনীশক্তি। এই ২৪ বছর এ আমি যে নিজে থেকে কিছুই করতে শিখিনি বুনু। আমি জানি তুই সাবলম্বী, কিন্তু তোর দিদিভাই যে তোকে ছাড়া খুব অসহায়। তাড়াতাড়ি আমার কাছে চলে আই বুনু। অপেক্ষায় রইলাম।”

শুধু দিদি বা পরিবারই নয়, মাত্র ২৪ বছর বয়সে ঐন্দ্রিলার এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তাঁর অনুরাগীরা ও সহকর্মীরাও। সকলেই তাঁর প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। নিজের নিজের মতো করে অনেকেই সে শোকজ্ঞাপনও করেছেন। অন্যদিকে, ঐন্দ্রিলার সবচেয়ে কাছের বন্ধু তথা প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরী নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে।