বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

‘ভুল’ অস্ত্রোপচারের জের! পাল্টে গেল অভিনেত্রীর মুখ, হাতছাড়া একাধিক কাজের অফার

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২, ০৫:৩৭ পিএম | আপডেট: জুন ২১, ২০২২, ০৫:৩৭ পিএম

‘ভুল’ অস্ত্রোপচারের জের! পাল্টে গেল অভিনেত্রীর মুখ, হাতছাড়া একাধিক কাজের অফার
‘ভুল’ অস্ত্রোপচারের জের! পাল্টে গেল অভিনেত্রীর মুখ, হাতছাড়া একাধিক কাজের অফার

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কন্নড় অভিনেত্রী স্বাতী সতীশ। ছোটপর্দার পাশাপাশি রুপোলি পর্দার জনপ্রিয় মুখ তিনি। কিন্তু কয়েকদিন আগেই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। রুট ক্যানেল সার্জারি করাতে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সার্জারির পর অদ্ভুতভাবে বদলে যায় তাঁর মুখের আদল। অস্বাভাবিক রকম ফুলে যায় মুখ, ঠোঁট। অভিনেত্রীর অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর এই অবস্থা।

একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, গত ২৮ মে রুট ক্যানেল সার্জারি করাতে ডেন্টাল ক্লিনিকে যান তিনি। ডেন্টিস্ট ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর মুখ ফুলে যেতে শুরু করে। সেদিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে এসে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরেরদিন উঠে দেখেন তাঁর চেহারা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। অভিনেত্রীর দাবি, তাঁর মুখ ফুলে যাওয়ার কারণে চিকিৎসা এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।

স্বাতী জানান, এরপর অপর একজন চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তখনই বুঝতে পারেন চিকিৎসায় কোথায় ভুল হয়েছিল। অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সেই কথা। জানা গিয়েছে, ডেন্টিস্ট তাঁকে প্রথমে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের ইনজেকশন দেওয়ার পর অ্যানাস্থেসিয়ার ইনজেকশন দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় চিকিৎসকের মত অনুযায়ী এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভুল। সেক্ষেত্রে প্রথমে অ্যানাস্থেসিয়ার ইনজেকশন দিয়ে পরে হাইপোক্লোরাইডের ইনজেকশন দেওয়া উচিত ছিল।

পুরো ঘটনায় স্বাতী সতীশ ওই ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক ডাঃ ধনঞ্জয় সঞ্জয়ের স্ত্রী ডাঃ ময়ূরীর দিকে আঙ্গুল তোলেন। অভিনেত্রীর দাবি, যখন হাইপোক্লোরাইটের ইনজেকশনটি দেওয়া হয়েছিল তখন রীতিমত যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠেছিলেন তিনি। এরপরই দেওয়া হয় অ্যানাস্থেসিয়ার ইনজেকশন। হাইপোক্লোরাইটের পর যদি স্যালাইন ইনজেকশন দেওয়া হতো তাহলে তাঁর মুখ এভাবে ফুলে যেত না। কিন্তু চিকিৎসক তা করেননি। এরপরের দিনই তিনি লক্ষ্য করেন তাঁর মুখ অস্বাভাবিক রকম বদলে গিয়েছে।

মুখমন্ডল বদলে যাওয়ার কারণে অভিনেত্রীর কেরিয়ার জীবনেও প্রভাব পড়েছে। জানিয়েছেন, চাকরি চলে গিয়েছে তাঁর। হাতছাড়া হয়েছে মডেলিং অ্যাসাইনমেন্ট, সিরিয়াল ও সিনেমার অফার। ফলে একপ্রকার হতাশা গ্রাস করেছে অভিনেত্রীকে। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের পর ২৩ দিন অতিক্রান্ত। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও ঠোঁট আগের আকারে ফিরে আসছে না। এমনকি কোনও সারও পাচ্ছেন না তিনি। চিকিৎসকের মতে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠতে আরও একমাস লাগতে পারে।

তবে কি অভিনেত্রী ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হবেন? অভিনেত্রীর বক্তব্য, এই বিষয়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। অভিযোগ করলে তার মামলা চলতে পারে ২ বছর পর্যন্ত। তবে চিকিৎসককে আইনি নোটিশ পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন স্বাতী সতীশ। এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি শেয়ার করে সকলকে সাবধান করেছেন তিনি। ক্লিনিক নয়, সবসময় বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাতী।

অন্যদিকে অভিনেত্রীর অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক। ওই ক্লিনিকের মালিক ডাঃ ধনঞ্জয় সঞ্জয় জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুরো চিকিৎসার ভিডিওগ্রাফি রয়েছে তাঁদের কাছে। তাতে স্পষ্ট যে হাইপোক্লোরাইটের আগেই অ্যানাস্থেসিয়ার ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও তিনি জানান, ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজ প্রমাণ করে যে অভিনেত্রী এখন সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কেবলমাত্র ক্লিনিকের নাম খারাপ করার জন্য ২৩ দিন আগের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বদনাম ছড়াচ্ছেন তিনি। কোনওরকম চিকিৎসার গাফিলতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেনি।