মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২

পল্লবী দে মৃত্যুকাণ্ডে কাঠগড়ায় ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’! সাগ্নিকের সঙ্গে কী সম্পর্ক? মুখ খুললেন ঐন্দ্রিলা

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২২, ০৩:৫৯ পিএম | আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ০৬:০৮ পিএম

পল্লবী দে মৃত্যুকাণ্ডে কাঠগড়ায় ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’! সাগ্নিকের সঙ্গে কী সম্পর্ক? মুখ খুললেন ঐন্দ্রিলা
পল্লবী দে মৃত্যুকাণ্ডে কাঠগড়ায় ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’! সাগ্নিকের সঙ্গে কী সম্পর্ক? মুখ খুললেন ঐন্দ্রিলা

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ পল্লবী দের রহস্যমৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পল্লবীর প্রেমিক তথা লিভ-ইন পার্টনার সাগ্নিক চক্রবর্তীকে ইতিমধ্যেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গড়ফা থানার পুলিশ। এরই মাঝে নাম উঠে এসেছে পল্লবীর এক বন্ধু ঐন্দ্রিলা মুখার্জীর নাম। এমনকি সাগ্নিকের পাশাপাশি ঐন্দ্রিলার বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পল্লবীর পরিবার।

এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন খোদ ঐন্দ্রিলা। তিনি জানান, পল্লবী তাঁর খুব ভালো বন্ধু ছিল। পল্লবীর সূত্রেই সাগ্নিকের সঙ্গে আলাপ। গড়ফার ফ্ল্যাটে মাত্র এক রাতই কাটিয়েছেন তিনি। কোনও এক বিয়েবাড়ি থেকে ফিরতে অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে সেদিন পল্লবীর ফ্ল্যাটে থেকে যান ঐন্দ্রিলা। এরপর আর কোনও দিনই তাঁর ফ্ল্যাটে যাননি। সাগ্নিককে চিনলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না বলেই দাবি করেন ঐন্দ্রিলা।

অন্যদিকে পল্লবীর পরিবারের অভিযোগ, পল্লবীর সঙ্গে লিভ-ইনে থাকাকালীনই‌ হাওড়া জগাছার বাসিন্দা ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হন সাগ্নিক চক্রবর্তী। এমনকি পল্লবী শুটিংয়ে বেরিয়ে গেলে তাঁর অনুপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে ঐন্দ্রিলাকে ডেকে পাঠাতেন সাগ্নিক। ফাঁকা ফ্ল্যাটে একান্তে সময় কাটাতেন দুজনে। ইতিমধ্যেই ঐন্দ্রিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত পল্লবীর পরিবার। খুন, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।

বেশ কয়েকদিন আগে পল্লবী ও সাগ্নিকের সঙ্গে একটি বারে দেখা যায় ঐন্দ্রিলাকে। পল্লবীর একটি ইনস্টাগ্রাম পোষ্ট থেকে এমনটাই ছবি উঠে আসে। এই প্রসঙ্গে ঐন্দ্রিলা বলেন, তাঁরা একসঙ্গে কোনও বারে যাননি। বরং একটা পার্টিতে আচমকাই পল্লবী ও সাগ্নিকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়ে যায়। আগে থেকে প্ল্যান করে কোথাও যাননি তাঁরা।

ঐন্দ্রিলার দাবি, বান্ধবীর মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে বাঙ্গুর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এমনকি ময়নাতদন্তের পর পল্লবীর দেহ যখন হাওড়ার বাড়িতে ফেরে তখন পল্লবীর পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। এত কিছুর পরও তাঁর বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ আনা হচ্ছে? বিশেষ করে কোনও প্রমাণ ছাড়া তাঁর দিকে কেন আঙ্গুল উঠছে? প্রশ্ন তুলেছেন ঐন্দ্রিলা।

পল্লবীর পরিবার এমনটাও অভিযোগ করেন যে, সাগ্নিক ও ঐন্দ্রিলা একসঙ্গে পরিকল্পনা করে পল্লবীর টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে ঐন্দ্রিলার বক্তব্য, টাকা-পয়সার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি পল্লবী ও সাগ্নিকের মধ্যে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনও ঝামেলা হয়েছে কিনা সেই বিষয়েও কোনও ধারণা নেই তাঁর। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা ছিল কিনা সেটাও জানেন না ঐন্দ্রিলা। সবকিছুর পরেও পল্লবীর পরিবার ঐন্দ্রিলাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। যদিও পল্লবীর পরিবারের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও বান্ধবীর মৃত্যুর তদন্তে পুলিশকে সমস্ত রকম সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ঐন্দ্রিলা।