মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২

‘আইনি মতে সাগ্নিক এখনও বিবাহিত, প্রায়শই হাত তুলত মেয়ের গায়ে’! বিস্ফোরক পল্লবীর বাবা

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২২, ০৭:৪৬ এএম | আপডেট: মে ১৬, ২০২২, ০৭:৪৬ এএম

‘আইনি মতে সাগ্নিক এখনও বিবাহিত, প্রায়শই হাত তুলত মেয়ের গায়ে’! বিস্ফোরক পল্লবীর বাবা
‘আইনি মতে সাগ্নিক এখনও বিবাহিত, প্রায়শই হাত তুলত মেয়ের গায়ে’! বিস্ফোরক পল্লবীর বাবা

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ টলি অভিনেত্রী পল্লবী দে’র মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই দানা বেঁধেছে রহস্য। রবিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ গড়ফার ফ্ল্যাট থেকে অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ওই ফ্ল্যাটে প্রেমিক সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে লিভ-ইন করতেন পল্লবী। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর প্রেমিককে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কারণ পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমিকের সঙ্গে বচসার জেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন পল্লবী।

এরই মাঝে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পল্লবীর বাবা নিলু দে-র বিস্ফোরক অভিযোগ, সাগ্নিক আগে থেকেই বিবাহিত। রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়ার আগেই পল্লবীর সঙ্গে লিভ-ইন করতে শুরু করেন সাগ্নিক। একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এও জানান, পল্লবী জীবনে থাকাকালীন তাঁরই এক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সাগ্নিক। এমনকি পল্লবীর অনুপস্থিতিতে প্রায়শই তাঁর ফ্ল্যাটে আসতে দেখা যেত ওই বান্ধবীকে।

পল্লবীর পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়ে কোনওদিন আত্মহত্যা করতেই পারেন না। পল্লবীর মৃত্যুর পেছনে খুনের তত্ত্ব খাড়া করেছেন অভিনেত্রীর পরিবার। পাশাপাশি পল্লবীর বাবা জানান, সাগ্নিক প্রায়শই পল্লবীর গায়ে হাত তুলতেন। এমনকি মেয়ের শরীরে বহুবার দাগও দেখতে পেয়েছেন তিনি। তাঁর সংযোজন, সাগ্নিকের প্রথম বিয়ের কথা পল্লবী প্রথমে জানতেন না। পরে জানতে পারলে সাগ্নিকের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাগ্নিক জানান তিনি ডিভোর্সের জন্য আবেদন করেছেন।

রবিবার কাটাপুকুর মর্গে অভিনেত্রীর দেহ ময়নাতদন্ত হয়। এদিন সন্ধ্যেয় সেই রিপোর্ট হাতে আসে। রিপোর্ট দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যাই করেছেন অভিনেত্রী। তবে কেউ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছে গড়ফা থানার পুলিশ। সাগ্নিককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সাগ্নিককে আটকের পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে গড়ফা থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, গড়ফার ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে থাকতেন পল্লবী ও সাগ্নিক। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকেই তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। রবিবার সকালেও তা অব্যাহত থাকে। এদিন সিগারেট খেতে সাগ্নিক বাইরে বেরোলে সেই সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন অভিনেত্রী। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরে দরজা ভেঙে পল্লবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে সাগ্নিকই।