মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২

মৃত্যুর আগে সাগ্নিকের সঙ্গে কী নিয়ে বচসা বাঁধে পল্লবীর? পুলিশি জেরায় উঠে এল নয়া তথ্য

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২২, ০৯:২০ পিএম | আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ০৯:২৩ পিএম

মৃত্যুর আগে সাগ্নিকের সঙ্গে কী নিয়ে বচসা বাঁধে পল্লবীর? পুলিশি জেরায় উঠে এল নয়া তথ্য
মৃত্যুর আগে সাগ্নিকের সঙ্গে কী নিয়ে বচসা বাঁধে পল্লবীর? পুলিশি জেরায় উঠে এল নয়া তথ্য

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ পল্লবী দের রহস্যমৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনের তত্ত্ব খাড়া করে সাগ্নিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পল্লবীর পরিবার। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবারই সাগ্নিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার সকালে ঠিক কী নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল পল্লবী ও সাগ্নিকের মধ্যে? একাধিক তথ্যের মাঝে সকলের মনে এই একটা প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল। অবশেষে মিলল সেই প্রশ্নের উত্তরও।

পুলিশের জেরার মুখে পড়ে সেদিন সকালের ঘটনার কথা স্বীকার করেন পল্লবীর প্রেমিক তথা লিভ-ইন পার্টনার সাগ্নিক চক্রবর্তী। তিনি জানান, সেদিন সকালে পরিচারিকাকে বাড়িতে আসতে বলে তাঁকে ফোন করেন পল্লবী। কিন্তু পরিচারিকা সেদিন কাজে আসতে অসম্মত হন। ফোনের মধ্যেই কার্যত মেজাজ হারান পল্লবী। দুজনের মধ্যে চলে কথা কাটাকাটি। পরিচারিকার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার প্রতিবাদ করেছিলেন সাগ্নিক। সেই নিয়েই দুজনের মধ্যে যাবতীয় বচসার সূত্রপাত।

এরপরই সিগারেট খেতে বাড়ির বারান্দায় যান সাগ্নিক। ততক্ষনে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন পল্লবী। সিগারেট খাওয়া শেষ হলে ঘরে ঢুকতে যাওয়ার সময় তিনি খেয়াল করেন পল্লবী ঘরের দরজা বন্ধ করেছেন। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা খোলেন না অভিনেত্রী। তখনই দরজার লকহোল দিয়ে সাগ্নিক খেয়াল করেন ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন পল্লবী। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কেয়ারটেকারের সাহায্য নিয়ে পল্লবীকে উদ্ধার করেন সাগ্নিকই। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও প্রাণে বাঁচানো যায়নি পর্দার ‘গৌরী’-কে।

প্রসঙ্গত, নিউটাউনে সাগ্নিকের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। পল্লবীর পরিবার দাবি করেন, ওই ফ্ল্যাট কিনতে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন পল্লবী। কিন্তু অন্যদিকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ফ্ল্যাট কিনতে সাগ্নিককে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। বাকি টাকা লোন নেওয়া হয়। পল্লবী ও সাগ্নিকের মধ্যে টাকার লেনদেনের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিরাট অঙ্কের টাকা লেনদেনের কোনও প্রমাণ হাতে আসেনি।

পাশাপাশি মঙ্গলবার পুলিশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে। সেখান থেকে প্রমাণ হয়, নিজের উপার্জনের উৎস ও কাজ সম্পর্কে ভুল বয়ান দিয়েছিলেন সাগ্নিক। এমনকি ফ্ল্যাট কিনতে তাঁর বাবার দেওয়া ২৫ লক্ষ টাকাই বা কোথা থেকে এল সেই প্রমাণও এখনও পর্যন্ত মেলেনি। পল্লবীর সঙ্গে সাগ্নিকের জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। পল্লবীর মৃত্যুতে সেই সমস্ত টাকা সাগ্নিকেরই পাওয়ার কথা।