সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২

‘মিঠাই’-কে হাতকাটা জামা পরাচ্ছে সিডি বয়! ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত নিয়ে চরম আপত্তি ভক্তদের একাংশের

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২২, ০৬:১২ পিএম | আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২২, ০৬:১২ পিএম

‘মিঠাই’-কে হাতকাটা জামা পরাচ্ছে সিডি বয়! ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত নিয়ে চরম আপত্তি ভক্তদের একাংশের
‘মিঠাই’-কে হাতকাটা জামা পরাচ্ছে সিডি বয়! ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত নিয়ে চরম আপত্তি ভক্তদের একাংশের

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এই মুহূর্তে বাংলা টেলিভিশনের সবথেকে জনপ্রিয় সিরিয়ালগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘মিঠাই’। একসময় টানা ৫২ সপ্তাহ ধরে টিআরপি তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিল এই ধারাবাহিক। যদিও পরবর্তীকালে প্রায়ই সেই জায়গা হারতে দেখা গিয়েছে মিঠাইকে। তাই মাঝে মাঝেই ধারাবাহিকের কাহিনীতে নিয়ে আসা হয়েছে চমকপ্রদ মোড়। তবে মিঠাই যতই জনপ্রিয়তার শিখরে থাক না কেন, এর হেটার্সের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাই সামান্য কিছু ছুতো পেলেই সেই নিয়ে শুরু হয়ে যায় ট্রোল, মিম।

সম্প্রতি মিঠাইয়ের একটি প্রোমো প্রকাশ্যে এসেছে। আর সেই প্রোমোকে কেন্দ্র করেই রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। সদ্যই সিদ্ধার্থকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া ওমির গুলি গিয়ে লেগেছিল মিঠাইয়ের গায়ে। সেই নিয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিল মিঠাই। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একেবারে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে ফিরে এসেছে মোদক বাড়ির বৌমা।

মিঠাইরানীকে মনোহরায় স্বাগত জানায় হল্লা পার্টি। বাড়ি ফিরে আসার পর থেকেই মিঠাইয়ের প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল হয়ে ওঠে সিদ্ধার্থ। মিঠাইয়ের সুবিধা অসুবিধার দিকে তার কড়া নজর। তবে মিঠাইকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখতে একেবারেই পছন্দ করছে না দর্শক। কারণ মিঠাই মানেই দুষ্টুমি। মিঠাই মানেই একরাশ হাসির উৎস। তাই মিঠাই কবে আবার আগের ফর্মে ফিরবে সেই অপেক্ষায় উৎসুক হয়ে রয়েছে ভক্তকুল। কিন্তু এরই মাঝে ঘটল বিপত্তি।

নতুন প্রোমোতে দেখা গিয়েছে, মিঠাইয়ের হাতে ঝোলানো রয়েছে সাপোর্ট ব্যাগ। হাত নাড়ানোর ক্ষমতা একেবারেই তার নেই। জামাকাপড় পাল্টানোও তার পক্ষে যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। তাই স্ত্রীকে জামাকাপড় পালটাতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে উচ্ছেবাবু। মিঠাইকে শাড়ির বদলে পরিয়ে দেয় হাতকাটা নাইট স্যুট। আর এই দৃশ্য দেখেই রাতারাতি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে মিঠাই হেটার্সরা।

মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুড়ে শুরু হয়ে যায় সমালোচনার ঝড়। মিঠাইকে সরাসরি দুপুর ঠাকুরপোর সঙ্গে তুলনা করে তারা দাবি করেন, পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে আর এই ধারাবাহিক দেখা যাবে না। কিন্তু হেটার্সদের সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে অনুরাগীরা। তারা বলেছেন, মিঠাইয়ের নাইট ড্রেস নিয়ে ট্রোল করা একেবারেই অর্থহীন। ধারাবাহিকের গল্প অনুযায়ী মিঠাইয়ের হাতে ব্যান্ডেজ। হাতটা ঠিক মতো নাড়াচাড়াও করতে পারছে না। এই অবস্থায় সিদ্ধার্থ যদি মিঠাইয়ের সুবিধা মত ড্রেস পরিয়ে দেয় তাতে সমস্যা কোথায়?

আসলে মিঠাইকে ছাপোসা গৃহবধুর সাজে দেখতেই অভ্যস্ত দর্শকদের একাংশ। বিশেষ করে এতটা আধুনিক পোশাকে মিঠাইকে কখনও দেখতে হবে তা তারা কোনওদিন ভাবেনি। তাই এত নিন্দা, এত সমালোচনা! সেখানেও অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন অনুরাগীরা। ‌বলেছেন, কারও স্বামী যদি তাকে আধুনিক বানাতে চায় তাহলে সেখানে তো বাকিদের আপত্তি থাকার কথাই নয়!

আলোচনা সমালোচনা সব মিলিয়ে একপ্রকার হুলুস্থুলু কান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায়। রীতিমতো আতস কাঁচের তলায় রেখে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে এত সমালোচনাও কি মিঠাইয়ের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমাতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দেবে টিআরপি তালিকা। গত সপ্তাহে মিঠাই সবাইকে পিছনে ফেলে তালিকার প্রথম স্থানে উঠে এসেছিল। হাতে আর মাত্র একটা দিন। তারপরই বোঝা যাবে ‘মিঠাই’ তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে কিনা।