বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

‘বাবা কম, বন্ধু ছিলে বেশি’! kk’র মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর ভাঙল নিরবতা, বাবার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি নকুলের

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৯:৫৪ পিএম | আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৯:৫৪ পিএম

‘বাবা কম, বন্ধু ছিলে বেশি’! kk’র মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর ভাঙল নিরবতা, বাবার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি নকুলের
‘বাবা কম, বন্ধু ছিলে বেশি’! kk’র মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর ভাঙল নিরবতা, বাবার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি নকুলের

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত, পরিবার ছেড়ে, এই জগত ছেড়ে পরলোক গমন করেছেন কেকে। প্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর মৃত্যুশোক আজও ভুলতে পারেননি অনুরাগীরা। শোকে পাথর হয়েছেন কেকে’র পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবরা। স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে বাড়িতে রেখে কলকাতায় পা রেখেছিলেন গান গাইতে। গানও গেয়েছিলেন। কিন্তু সশরীরে তাঁর আর বাড়ি ফেরা হল না। ফিরল কেবল সঙ্গীতশিল্পীর কফিনবন্দি দেহ।

কেকে’র মৃত্যু তাঁর পরিবারের কাছে যে কত বড় ক্ষতি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাবাকে হারিয়ে শোকোস্তব্ধ মেয়ে তামারা ও ছেলে নকুল। কয়েকদিন আগে পিতৃ দিবসে বাবার ছবি পোস্ট করে মনের কথা লিখেছিলেন কেকে-কন্যা তামারা। কিন্তু এতদিনেও বাবাকে নিয়ে একটি কথাও বলেননি শোকে পাথর নকুল। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি। বাবার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন একটি খোলা চিঠি।

নকুলের পোস্ট করা চিঠির প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে বাবার সাথে কাটানো শৈশবের নানা মুহূর্ত। প্রকাশ পেয়েছে অতীতের রঙিন স্মৃতি। চিঠিতে নকুল লিখেছেন, “তিন সপ্তাহ আগে ঠিক কী ঘটেছিল তা বুঝতে আমার অনেকটা সময় লেগে গেল। এখনও এই যন্ত্রণাটা শারীরিক, মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার বুকের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি অনেক কিছু বলতে চাইছি, বাবাকে নিয়ে অনেক কিছু শেয়ার করতে চাইছি, বুঝতে পারছি আঘাতের কারণেই আমি তা বলতে পারছিনা। সত্যিকারের যন্ত্রণা যে আসলে কি অবশেষে আমি তা বুঝতে পারলাম।”

চিঠিটির প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে কাছের মানুষকে হারানোর এক অসহ্য যন্ত্রণার কথা। নকুল আরও লিখেছেন, “এখন বুঝতে পারছি ঠিক কী প্রিভিলেজ তুমি আমায় দিয়েছ। প্রিভিলেজ মানেই কেবল একটি সুরক্ষিত জীবন নয়। আমার কাছে সব থেকে বড় প্রিভিলেজ ছিল তোমায় প্রতিদিন চোখের সামনে দেখতে পাওয়া।

নকুলের কথায়, “আজ কত মানুষ তোমায় দেখতে চায়, একবার তোমার সান্নিধ্য চায়। আর আমি তো তোমায় রোজ দেখেছি। মানুষের জন্য তোমার ভালবাসা, তোমার স্বভাব, গানের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা। সবেতেই একটা ইতিবাচক চিন্তা ছিল তোমার মধ্যে। তাই গানের রাস্তা ধরেই এগিয়ে গেলে। আজ প্রতিমুহূর্তে তোমার ভালোবাসায় আমরা প্লাবিত।”

নিজের মনের কথা প্রকাশ করার জন্য একটা চিঠি যথেষ্ট ছিল না নকুলের কাছে। তবুও তিনি যতটা পেরেছেন ততটাই ভাগ করে নিয়েছেন সকলের সঙ্গে। লিখেছেন, “তুমি সবসময় আমাকে নিজের সমান সমান মনে করতে। আমার সঙ্গে সেভাবেই ব্যবহার করতে, আগলে রাখতে। যে কোনও আলোচনায় বড়দের মতই গুরুত্ব দিতে আমাকে। সারাজীবন তুমি আমার উপর ভরসা রেখেছ। তোমার মতামত বুঝিয়ে বলেছ আমাকে। আমার অন্য বন্ধুদের সঙ্গে তাঁদের বাবার সম্পর্কের কথা শুনে অদ্ভুত লাগত। তোমার-আমার সম্পর্ক অন্যরকম ছিল। বাবার থেকেও বন্ধু ছিলে বেশি। কেবল আমাদের হৃদয়েই নয়, লক্ষ লক্ষ হৃদয়ে তোমার স্থান।”

নকুলের আবেগঘন চিঠি চোখে জল এনেছে নেটিজেনদের। এই চিঠি থেকে স্পষ্ট, পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা গ্রাস করেছে নকুলকে। এই ক্ষত চিরকালের ক্ষত। পিতৃহারা পুত্রের শোকে সমব্যথী হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। কমেন্ট বক্সে উপচে পড়েছে শোকবার্তা। তবুও নকুলের মনের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া কারুর পক্ষেই সম্ভব না।