ভুয়ো আইএএস পরিচয়ে চলতো কোটি টাকার প্রতারণা! বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস

ভুয়ো আইএএস পরিচয়ে চলতো কোটি টাকার প্রতারণা! বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস
ভুয়ো আইএএস পরিচয়ে চলতো কোটি টাকার প্রতারণা! বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের শহরে ভুয়ো পরিচয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ভুয়ো আইএএস পরিচয় দিয়ে চলত কোটি টাকার প্রতারণা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে চিনার পার্ক এলাকার বাসিন্দা নার্সারির ব্যাবসায়ী তরুণ কুমার দাস বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেছিলেন যে, এক ব্যক্তি দিল্লি ডেভলমেন্ট অথরিটির থেকে গাছের ৭৯ কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে তাঁর থেকে ৬ কোটি টাকা প্রতারণা করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ ২৭ তারিখ ধ্রুব ব্যানার্জি নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তী সময়ে তদন্তে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ জানতে পারে যে, অভিযোগকারী ওই ব্যবসায়ীকে অনেকবারই দিল্লি নিয়ে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত ধ্রুব। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে, দিল্লি ডেভলমেন্ট অথরিটির সেক্রেটারি হিসাবে একজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করায়। অভিযুক্ত ধ্রুব ব্যানার্জি সেই অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিকে আইএএস পরিচয় দিয়ে বৈঠক করায় বলে পুলিশ সুত্রে খবর।

সেই তদন্তের ভিত্তিতে গতকালই অভিযুক্ত মহাশয় পান্ডেকে গ্রেফতার করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ব্যক্তি নিজেকে ভুয়ো আইএএস অফিসার পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা চক্র চালাতো। এক্ষেত্রে অভিযোগকারীর সঙ্গে প্রতিবারই ভুয়ো আইএএস অফিসার হিসাবে পরিচয় দিয়ে কথাও বলতো এই অভিযুক্ত। যে ফোন ব্যবহার করে অভিযুক্ত প্রতারণা করতো সেই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। এর পাশাপাশি ধ্রুব ব্যানার্জির থেকে যে একাউন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতো অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই একাউন্টের ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই ব্যক্তির সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তির যোগাযোগের সূত্র তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, এই প্রতারণা চক্রের অপর এক অন্যতম পাণ্ডা ইতিমধ্যেই অন্য একটি মামলায় কলকাতা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। তাঁকেও তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

এদিকে আজই অভিযুক্তকে বিধাননগর আদালতে তোলা হবে। আদলতের কাছে অভিযুক্তের টি আই প্যারেডের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আরও এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ধ্রুব ব্যানার্জি দিল্লি ডেভলপমেন্ট অথরিটির অফিসার হিসাবে পরিচয় করিয়েছিল। এই মুহূর্তে সেই ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে একাধিক ভুয়ো আধিকারিকের সন্ধান মিলেছে। ভুয়ো সিবিআই অফিসার, আইএএস অফিসার থেকে আইনজীবী ইত্যাদি। আর এইসব ভুয়ো পরিচয়েই চলত প্রতারণা। দেবাঞ্জন কাণ্ডের পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আর তাতেই এক করে পুলিশের জালে ধরা পড়তে শুরু করে।