জাল টিকাকরণ কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মিছিলের ডাক বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের, বিকেলে কসবা থানা ঘেরাও

জাল টিকাকরণ কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মিছিলের ডাক বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের, বিকেলে কসবা থানা ঘেরাও
জাল টিকাকরণ কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মিছিলের ডাক বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের, বিকেলে কসবা থানা ঘেরাও / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। কসবায় ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। এই জাল টিকাকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই নতুন উদ্যমে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজ্য বিজেপি।

আজ এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের প্রতিবাদে নবান্ন পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন। এই মিছিল বিজেপির রাজ্য দফতর থেকে শুরু হয়ে, নবান্ন পর্যন্ত হবে। এর পাশাপাশি শনিবার অর্থাৎ আজ বিকেলেই ৪ টের সময় কসবা থানায় বিক্ষভেরও ডাক দিয়েছে বিজেপি।

উল্লেখ্য, গতকালই এই জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। একদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন যে, রাজ্যে ভ্যাকসিন সিন্ডিকেট চলছে। আবার আরেক বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর দাবি, এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের তদন্ত করাতে হবে সিবিআইকে দিয়ে। আবার সিবিআই তদন্তের দাবির পাশাপাশি, এই কাণ্ডে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের প্রধান ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু।

এদিকে জানা গিয়েছে যে, এই জালিয়াতির ছত্রে ছত্রে কলকাতা পুরসভার নাম জড়িয়ে আছে। কলকাতা পুরসভার জাল নথি-হলোগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে রাজ্য সরকারের নামও। দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে এই জালিয়াতি। কীভাবে মাসের পর মাস ধরে চলা এই জালিয়াতি কারও চোখে পড়েনি? কেনই বা কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এইসব প্রশ্ন তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন যে, ‘ভ্যাকসিন নেই, জল দেওয়া হচ্ছে। হচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় সাংসদও গিয়ে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। আমার মনে হয় ওখানকার মেয়রও যুক্ত আছেন কাটমানিকাণ্ডের সঙ্গে। সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’ আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই উক্তির পাল্টা জবাব দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘জন প্রতিনিধিরা যান অনুষ্ঠানে। কেউ পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে ছবি তুলছে এটা আলাদা করে বোঝা মুশকিল। ওরা এটাকে নিয়ে বাজার করে। কিন্তু প্রশাসন সতর্ক। খড়গপুরে যা যা অভিযোগে উঠছে রেলের পার্টস চুরি হচ্ছে সব দায়িত্ব কি দিলীপ দা নেন?’

শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয়ে, স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি দলের সাংসদ সুভাষ সরকার, বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে হাজির হন। সেখানেই তিনি স্মারকলিপি দিয়ে এই জাল টিকাকরণ কাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেন। পাশাপাশি এই কাণ্ডে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন যে, ‘এটা বিরাট বড় একটা ষড়যন্ত্র। বড় কোনও এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। সিবিআই সাংবিধানিক সংস্থা। সিবিআই যোগ্য এই তদন্তের জন্য। জাল টিকা নিয়ে এখনও কেউ মারা যাননি। কিন্তু গেলে তখন বলা হত, মোদীজি যে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছেন, তা থেকেই এমন হয়েছে। আমাদের মনে হয়, এটা বড় ষড়যন্ত্র। তাই তদন্ত করতেই হবে।’ এর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন।

উল্লেখ্য, জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে সিট গঠন করেছে লালবাজার। এই কাণ্ডের সঠিক তদন্তের স্বার্থে ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হল। গোটা বিষয়ে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন এই ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল। জানা গিয়েছে, ডেপুটি কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের তরফে এই সিট গঠন করা হয়েছে। এই ১০ সদস্যের দলে থাকছেন প্রতারণা দমন, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন ও কলকাতা পুলিসের বিশেষ সেলের আধিকারিকরা। কীভাবে দেবাঞ্জন করোনা অতিমারি পরিস্থিতিতে মাস্ক, স্যানিটাইজার-সহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী সংগ্রহ করত এবং কীভাবেই বা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো টিকাকরণ কর্মসূচি চলছিল? সেইসবই খতিয়ে দেখবেন এই ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা।

আবার জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, বলা হয়েছে, এটা অপরাধমূলক কাজ। ব্যক্তি বিশেষ এর সঙ্গে জড়িত। কোথায় ভ্যাকসিন ক্যাম্প হবে, তা জেলা প্রশাসন ঠিক করে। তারপর তা কো-উইন পোর্টালে আপলোড হয়। কারণ, এভাবেই কতজন ভ্যাকসিন নিলেন তা নজরদারি করা হয়। এক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।