‘যাঁরা বিজেপির নিষ্ঠুরতায় মাথা নোয়াননি, এই জয় তাঁদের’! কৃষি আইন প্রত্যাহারে প্রতিক্রিয়া মমতার

‘যাঁরা বিজেপির নিষ্ঠুরতায় মাথা নোয়াননি, এই জয় তাঁদের’! কৃষি আইন প্রত্যাহারে প্রতিক্রিয়া মমতার
‘যাঁরা বিজেপির নিষ্ঠুরতায় মাথা নোয়াননি, এই জয় তাঁদের’! কৃষি আইন প্রত্যাহারে প্রতিক্রিয়া মমতার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ গুরু নানকের জন্মদিন। আর আজকের দিনেই বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই এতদিন ধরে কৃষকদের আন্দোলন সফল হল বলা যায়।

গুরু নানকের জন্মদিন গুরুপরবে এই ঘোষণা করেন মোদী। মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘হয়তো আমাদের তপস্যায় কিছুর অভাব ছিল, যে কারণে আমরা কৃষকদেরকে এই আইন সম্পর্কে বোঝাতে পারিনি। তবে, আজ প্রকাশ পর্ব, কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আজ আমি দেশকে বলতে চাই যে আমরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

সামনেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। এদিকে, কৃষক আন্দোলনের জেরে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই একপ্রকার বাধ্য হয়েই চাপের মধ্যে তিন বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করল মোদী সরকার। শুক্রবার এই ঘোষণার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে যায়।

সর্বদা কৃষক আন্দোলনের পাশে থাকা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও এদিন প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি টুইট করে বলেছেন, ‘এতদিন যাঁরা বিজেপির নিষ্ঠুরতার সামনে মাথা নোয়াননি, এই জয় তাঁদের। প্রত্যেক লড়াকু কৃষককে আমার হার্দিক অভিনন্দন।’ অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমবেদনা জানিয়েছেন, যারা এই সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছেন, সেইসব কৃষকদের পরিবারের প্রতি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বরাবরই কৃষক আন্দোলনে নিজেকে শামিল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল যেমন ঘটেছিল এই কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার ছিল সিঙ্গুরের কৃষি আন্দোলন। সেই কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিকে হাতিয়ার করেই তৃণমূল নেত্রী নিজের সমর্থন পৌঁছে দিয়েছিলেন দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানার প্রতিবাদী কৃষকদের কাছে। আবার তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লির সিংঘু সীমানায় অবস্থানরত কৃষকদের কাছে গিয়ে, হাতে হাত রেখে সমর্থনের বার্তা দিয়ে এসেছিলেন দলের সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্য়ায়রা। মমতা নিজে কৃষক নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে আশ্বাস দেন। এমনকী এই আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা রাকেশ টিকায়েত একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় এসে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এভাবেই কেন্দ্রের তিন বিতর্কিত, কৃষক বিরোধী নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতিটি পদক্ষেপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরোক্ষ যোগ ছিল। আজ যখন সেই আন্দোলনে সাফল্য এসেছে, তিন আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী, তখন সেই জয়ের মুহূর্তে তৃণমূল সুপ্রিমো গোটা কৃতিত্ব কৃষকদের দিলেন, যাঁরা এতদিন বুকের ভিতরে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। প্রিয়জনকে হারিয়েও থেমে যাননি। টুইটে তিনি তাঁদের কথাই বললেন, যেভাবে সবসময় মানুষের সমবেত প্রতিরোধকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন, ঠিক সেইভাবেই। এদিন দিল্লির যেসব সীমানায় কৃষক আন্দোলন চালাচ্ছিলেন, তাঁরা সকলেই জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছেন।

অন্যদিকে, কৃষি আইন প্রত্যাহার নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এদিন প্রতিক্রিয়ায়, ‘সামনে পাঞ্জাব-সহ ৫ রাজ্যের ভোট। সেই নির্বাচনী অঙ্ক মাথায় রেখেই কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হল। তবে, এটা নিঃসন্দেহে কৃষকদের বড় জয়, এনিয়ে সংশয় নেই।’ একই মত আরেক সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়েরও। এদিন প্রধানমন্ত্রীর নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা করার পরই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর টুইট করে বলেন, ‘সত্যাগ্রহের মাধ্যমে দেশের অন্নদাতারা জয় ছিনিয়ে নিলেন, তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রণাম।’