মূর্তি নয়, নিজের ৮ বছরের কন্যাকেই লক্ষ্মীরূপে পুজো করে নজির গড়লেন বাবা!

মূর্তি নয়, নিজের ৮ বছরের কন্যাকেই লক্ষ্মীরূপে পুজো করে নজির গড়লেন বাবা!
মূর্তি নয়, নিজের ৮ বছরের কন্যাকেই লক্ষ্মীরূপে পুজো করে নজির গড়লেন বাবা!

‘এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে’! দীপাবলির রাতে দীপান্বিতা লক্ষ্মীপূজার ঘটা দেখা যায় বাংলার ঘরে ঘরে। আর এদিনই লক্ষ্মীপূজার অভিনব আয়োজন করে তাক লাগিয়ে দিলেন এক বাবা। মূর্তি নয়, এদিন নিজের ৮ বছরের কন্যাসন্তানকেই দেবীরূপে পূজা করলেন তিনি। কন্যা সন্তান জন্মানো কোনও বোঝা নয়, বরং কন্যা সন্তান পরিবারের সম্পদ, এই সমাজের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতেই তাঁর এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার নিজের একমাত্র আদরের শিশুকন্যা দেবাঙ্কিতাকে লক্ষ্মীরূপে সাজিয়ে উপাচার মেনে পূজা করেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবরডাঙ্গার বাসিন্দা দেবব্রত ও পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরনে লাল সাদা শাড়ি, লাল ব্লাউজ। গলায় রজনীগন্ধার মালা। মাথায় রজনীগন্ধারই মুকুট। একহাতে পদ্ম, অন্য হাতে লক্ষ্মীর ঝাঁপি। মা লক্ষ্মীর সাজে এদিন দেবাঙ্কিতাকে লক্ষ্মীমন্ত দেখাচ্ছিল। শঙ্খধ্বনি আর ঘন্টার আওয়াজে মন্ত্র উচ্চারনের মধ্য দিয়ে এক ব্যতিক্রমি দীপান্বিতা লক্ষ্মীপূজার সাক্ষী হলেন এলাকার মানুষও।

অন্যদিকে, ব্যতিক্রমী এই পূজায় অংশ নিতে পেরে খুশি শ্রীমা মঠের অধ্যক্ষ স্বামী সত্যরুপানন্দ মহারাজও। তাঁর কথায়, “প্রতিটি মেয়েই তার বাবা ও মায়ের কাছে ঘরের লক্ষ্মী। তাই নিজের মেয়েকে লক্ষ্মী সাজিয়ে পূজা করা যেতেই পারে। পরিবারে একটা মেয়ে জন্মানো মানেই পরিবারের আয় উন্নতি বৃদ্ধি হয়। মেয়েরা মায়ের জাত। তাই এখানে শাস্ত্রমতে ঘরের মেয়ের লক্ষ্মীপূজা করা হল। ধর্মীয় উপাচার মেনে মেয়েকে এখানে লক্ষ্মীরুপে পূজা করা হয়েছে।”

কিন্তু এদিন নিজের শিশুকন্যাকে কেন লক্ষ্মীরূপে পূজা করলেন দম্পতি? উত্তরে দেবব্রতবাবু জানান, “আমাদের বাড়ির বংশ পরম্পরা হিসেবে এইদিনই মা লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। স্বরুপনগরের গোবিন্দপুরের বাড়ুজ্জ্যে জমিদার বাড়ির উত্তরসূরী আমরা। আমার পিতৃপুরুষেরা অনেক বছর ধরেই এই পূজা করে আসছেন। কিন্তু আমাদের কোল আলোকিত করে যখন মেয়ে এল, তখন থেকেই প্রতি বছরে দীপান্বিতার দিন মা লক্ষ্মীর পূজা করে আসছি। কারণ, আমরা সমাজে প্রতিনিয়তই দেখি বিভিন্ন জায়গায় কন্যাসন্তানের প্রতি মানুষের অবহেলার ঘটনা। অত্যাচারিত হয় মেয়েরা। আর সেই জায়গা থেকেই আমরা সমাজের বুকে বার্তা দিতে চেয়েছি মেয়েরা মায়েরই রূপ। তাই তাদের সম্মান জানানো উচিৎ।”

যে দেশে মেয়ে হওয়ার অপরাধে একরত্তি মেয়েকে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তায়। যেখানে স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে মেয়েদের সুরক্ষার জন্য দেশের সর্বত্রই সচেতনতার প্রচার চালাতে হয় সরকারকে। সেখানে দাঁড়িয়েই নিজের মেয়েকে লক্ষ্মীরূপে পূজা করে এক অনন্য নজির করলেন গোবরডাঙার এই দম্পতি।