নিম্নচাপের জেরে ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা! অগ্রিম সতর্কবার্তা নবান্নের

নিম্নচাপের জেরে ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা! অগ্রিম সতর্কবার্তা নবান্নের
নিম্নচাপের জেরে ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা! অগ্রিম সতর্কবার্তা নবান্নের

রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি। আগামী ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত নিম্নচাপের জেরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কার্যের একাধিক জেলায়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পেতেই বিভিন্ন জেলার প্রশাসনকে সতর্ক করল নবান্ন। একাধিক সতর্ক বার্তা দিয়ে কলকাতাসহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষ করে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে নবান্নের তরফে।

ইয়াসের প্রভাব কাটতে না কাটতেই ফের বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ। যার জেরে আগামী কদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস। কোথাও আবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই নবান্নের তরফে জেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, যে সমস্ত জায়গায় ইয়াসের প্রভাবে বাঁধ ভেঙে গিয়েছে সেই বাঁধ মেরামতির কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। একইসঙ্গে বিপদসংকুল এলাকার মানুষদের দ্রুত ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যেতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে আজ নবান্নে ২৬তারিখে বান আসা নিয়েআগাম সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আশঙ্কা থেকেই রাজ্য প্রশাসনকে অগ্রিম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিলেন তিনি। জানান এর থেকেও বেশি জলোচ্ছাস পারে এই বানে।আম্ফানের ক্ষতি থেকে সব সামলে উঠছিল রাজ্য, এর মধ্যেই ইয়াসের বিপর্যয়। সেই বিপর্যয় থেকে বুঝে ওঠার আগেই আবার চোখ রাঙাচ্ছে 11 এবং 26 জুনের বান। তাই সোমবার তড়িঘড়ি প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে অগ্রিম বৈঠক করে প্রকৃতি দিয়েই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আটকানো হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে স্থায়ী সমাধান করার চেষ্টা করলেন তিনি।

এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফনী বুলবুল, আমফান, ইয়াস, একটার পর একটা দুর্যোগ এসেই যাচ্ছে। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধান কী, জানতে হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিবেশমন্ত্রককে দিয়ে একটা বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়েছি। ২৪ জন সদস্য নিয়ে তৈরি ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির কমিটির চেয়ারম্যান কল্যাণ রূদ্র। কলকাতা, যাদবপুর, কল্যাণী, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা আছেন।”

ভরা কোটাল নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অবিলম্বে কিছু কাজ করতে হবে। আবার ১১ তারিখ বান আসছে, ২৬ তারিখ আসছে, সুতরাং ২৬ তারিখ পর্যন্ত কিন্তু জলটা জমবে।ইয়াস ও ভরা কোটালের জলে এখনও ফুলে ফেঁপে রয়েছে উপকূলবর্তী এলাকার নদীগুলি। জল এখনও পুরোপুরি নামেনি। তার মধ্যেই বর্ষার আগমন বার্তায় উদ্বেগে রাজ্য সরকার। বৃষ্টি শুরু হলে জল আরও বাড়তে শুরু করবে। তখন ত্রাণ শিবিরে থাকা বাসিন্দাদের ঘরে ফেরানো যাবে না।”

মমতা বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাতে হবে। প্রতিদিন কত বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সেই যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে সরকারের কাছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আমার সঙ্গে আলোচনা না করে যেন কোনওভাবে জল না ছাড়ে ডিভিসি। এই নিয়ে সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা করে এগোতে হবে”। প্রতি মুহূর্তের আপডেটে তিনি নজর রাখছেন বলেও জানান।

তিনি জানান, যেখানে যেখানে বান আসবে সেখানে ১১-১২ জুন আবেদনের কাজ বন্ধ। মৌসুনি ও সাগর দ্বীপে ২০ হাজার লোক আছে। এই এলাকায় ১১ তারিখের আগে তাঁদের উদ্ধার করতে হবে।