পুরসভার জল খেয়ে মৃত্যু, অভিযোগ মানতে নারাজ ফিরহাদ

পুরসভার জল খেয়ে মৃত্যু, অভিযোগ মানতে নারাজ ফিরহাদ
পুরসভার জল খেয়ে মৃত্যু, অভিযোগ মানতে নারাজ ফিরহাদ

ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের পানীয় জল খেয়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। অসুস্থ শতাধিক। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত স্থানীয়রা। যদিও মৃত্যুর অভিযোগ ওড়ালেন পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক আবাসনে দুটি জলের ট্যাঙ্ক আছে। সেই দুটি ট্যাঙ্কের জলই পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। গত কয়েকদিনে সেই ট্যাঙ্কের জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা। সূত্রের খবর, সজ্জন নামে আবাসনের এক বাসিন্দা ওই জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে শম্ভুনাথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পার্কসার্কাসের হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

শশীশেখর বোস রোডের কলকাতা পুরসভার শ্রমিক আবাসনে পাশাপাশি পুরসভার পাঁচটি কোয়ার্টার রয়েছে। এখানে ৫ নম্বর কোয়ার্টারে থাকতেন ভুবনেশ্বর দাস (৫২)। ১২ মার্চ রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরের দিন অর্থাৎ ১৩ তারিখ মারা যান ভুবনেশ্বরবাবু। পুরসভার শ্রমিক আবাসনের বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের পরিবারের অভিযোগ, পুরসভার জল খেয়েই তাঁরা অসুস্থ হয়েছেন।

আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ট্যাঙ্ক দুটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয় না। নদর্মার জল কোনওভাবে ট্যাঙ্কের জলে মিশে গিয়ে বিষক্রিয়া ঘটেছে। বিষক্রিয়ার জেরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সকলে এমনটাই অনুমান স্থানীয়দের। মৃত্যুর খবর পেয়েই ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে তত্‍পর হয় পুরসভা। ট্যাঙ্কের জল ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুরসভা। পাশাপাশি, আবাসনের বাইরে দুটি পানীয় জলের ট্যাঙ্ক বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় পুরসভা কর্তৃপক্ষ।

এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, `যেকোন মৃত্যুই দুঃখজনক। আমি মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে চাই। তবে আমি যা শুনলাম, উনি হার্টের সমস্যা এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে মারা গিয়েছেন। ডেথ সার্টিফিকেটে তো তাই বলা আছে। জলের যদি সমস্যা থাকে তাহলে সেটা আধিকারিকদের দেখা উচিত ছিল। আমি আজ সকালে শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই জলের কী সমস্যা হয়েছে তা দেখার ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি যে আধিকারিকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করবেন।‘

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.