‘আত্মরক্ষার্থে’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি! মাথাভাঙায় মর্মান্তিক মৃত্যু ৪ জনের

'আত্মরক্ষার্থে' কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি! মাথাভাঙায় মর্মান্তিক মৃত্যু ৪ জনের
'আত্মরক্ষার্থে' কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি! মাথাভাঙায় মর্মান্তিক মৃত্যু ৪ জনের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ মর্মান্তিক ঘটনা। বাংলার চতুর্থ দফার ভোটেও অশান্তি অব্যাহত। ফের একবার রক্তাক্ত হল বাংলা। শীতলকুচি বিধানসভার অন্তর্গত মাথাভাঙ্গার জোড়পাটকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে চার জনের। আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৃত চারজনই তাঁদের দলের সক্রিয় কর্মী। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার কথা স্বীকার করে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতেই ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, জোড়পাটকির ১ নম্বর বুথের ভোটার মৃত ওই চার যুবক হলেন, হামিদুল হক, মনিরুল হক, সামিয়ুল মিঞ্চা, আমজাদ হোসেন। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, এদিন সকাল থেকে মোটামুটি শান্ত ছিল এলাকা। ভোট দিতে গিয়েছিলেন ওই চার যুবক। তারা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী এলোপাথারি গুলি চালায়। রক্তাক্ত হন বহু তৃণমূল কর্মী। আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা ওই চার যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করে্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে যে, এলাকার ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। সেই সময়ই হঠাৎই একটি ছেলেকে মারধর করতে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপরই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই গুলি চালায় বাহিনী। আর তাতেই মৃত্যু হয় চারজনের। কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিকল্পনা করেই গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরপরই ওই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ওই এলাকার তৃণমূল কর্মী ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, শুক্রবার রাত থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এও অভিযোগ করা হয় যে, বিজেপির হয়ে কাজ করছে বাহিনী। তৃণমূল কর্মীদের উপর অকারণে হামলা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভোটের কয়েকদিন আগে থেকেই শীতলকুচির পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়িতে হামলার পর থেকেই এখানকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর আজ এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে বাংলায়। এমনিতেই শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে, ভোটদানে বাধা দিচ্ছে, বিজেপির হয়ে কাজ করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এর জেরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রিপোর্টও পাঠানো হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিকে ঘিরে।

এই ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূলের তরফে দোলা সেন বলেন যে, ‘মানুষ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শো-কজ করছে। নিন্দনীয় ঘটনা। এর জবাব বিজেপিকে দেবে মানুষ।’

অন্যদিকে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা গুলি চালানোর অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, প্রায় ৩০০ জনের একটি দল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা করেছিল। সেই কারণেই আত্মরক্ষা করতে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে সিআরপিএফ। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.