শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

স্বদেশী আন্দোলন থেকে অন্তর্ধান, রহস্যে ঘেরা তাঁর জীবন! জন্মবার্ষিকীতে স্মরণে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৩, ০৫:৪৩ পিএম | আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৩, ০৫:৪৩ পিএম

স্বদেশী আন্দোলন থেকে অন্তর্ধান, রহস্যে ঘেরা তাঁর জীবন! জন্মবার্ষিকীতে স্মরণে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
স্বদেশী আন্দোলন থেকে অন্তর্ধান, রহস্যে ঘেরা তাঁর জীবন! জন্মবার্ষিকীতে স্মরণে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

দেশের স্বার্থে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আত্মবলিদানের কথা আজ কারোর অজানা নয়। দেশকে তিনি নিজের মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করতেন। প্রাণপণ ভালোবাসতেন দেশের সাধারণ মানুষজনকে। তাদের সুবিধার্ধে হেন কোনও কাজ ছিল না যা করতে পিছপা হতেন তিনি। আর তাই দেশমাতৃকাকে ব্রিটিশ শাসনের শিকল থেকে মুক্ত করতে নিজের গোটা জীবনই করে দিয়েছিলেন উৎসর্গ।

১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি, এই আজকের দিনেই ওড়িশার কটকে জন্ম নিয়েছিলেন ভারতের এই বীর সন্তান। কটকের র‌্যাভেনশা কলেজিয়েট স্কুল থেকে   প্রাথমিক পড়াশোনা সেরে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পাশ করেন। এরপর ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি নিতে তাঁর মা-বাবা নেতাজিকে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। ১৯২০ সালে নেতাজি ইংল্যান্ডে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করে চাকরি পান।

তবে সেই চাকরি কিন্তু বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। ভারতীয় স্বতন্ত্রতা সংঘর্ষে যোগ দেওয়ার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন নেতাজি। এরপরে দেশে ফিরে দেশমাতৃকাকে ইংরেজদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। জালিয়ানওয়ালা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নেতাজিক অত্যন্ত বিচলিত মর্মাহত করে।

১৯৩৮ সালে নেতাজিকে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেসের অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত করা হয়। এরপর নেতাজি রাষ্ট্রীয় যোজনা আয়োগ গঠন করেন। তবে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে কোনও দিনই সহমত ছিলেন না নেতাজি। নেতাজি মনে করতেন যে ইংরেজদের ভারত থেকে তাড়াতে হলে শক্তিশালী বিপ্লবের প্রয়োজন, অন্যদিকে গান্ধী অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। তাই দুই নেতার মতবিরোধ লেগেই থাকত৷ ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গান্ধীজির সমর্থনে দাঁড়ানো পট্টাভী সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে জয়ী হন। এর ফলে গান্ধী ও বসুর মধ্যে বিভেদ দেখা দেয়, যার পরে নেতাজি নিজেই কংগ্রেস ত্যাগ করেন।

ভারতকে ইংরেজের হাত থেকে মুক্ত করতে নেতাজি ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর ‍‍`‌আজাদ হিন্দ সরকার‍‍`‌-এর প্রতিষ্ঠা করার সময়ই ‍‍`‌আজাদ হিন্দ সেনা‍‍`‌ গঠন করেন। এরপর সুভাষচন্দ্র বসু নিজের সেনা নিয়ে ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই বর্মা (‌এখন মায়ানমার)‌ পৌঁছান। এখানে নেতাজি তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ‍‍`‌তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাকে স্বাধীনতা দেব‍‍`‌ বলেছিলেন। ১৯২১ সাল থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত নেতাজি দেশের স্বাধীনতার জন্য বহুবার জেলে গিয়েছেন। তিনি মানতেন যে অহিংসার জোরে স্বাধীনতা কখনও আসবে না।

নেতাজি জার্মানিতে আজাদ হিন্দ ইন্ডিয়া স্টেশন শুরু করেন এবং পূর্ব এশিয়াতে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস করতেন যে ভগবত গীতা তাঁর প্রেরণার মুখ্য উৎস ছিল। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, নাৎসি জার্মানি, জাপানের মতো দেশে ভ্রমণ করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সহযোগিতা চান।

১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট তাইপেইতে একটি বিমান দুর্ঘটনার পর নেতাজি নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকেই নেতাজির মৃত্যু ও নিখোঁজ নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। এই ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিশন বসেছিল, যার মধ্যে দুটি তদন্ত কমিশন দাবি করেছিল যে দুর্ঘটনার পর নেতাজি মারা গিয়েছিলেন। বিচারপতি এম কে মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃতীয় তদন্ত কমিশন দাবি করেছিল যে ঘটনার পর নেতাজি জীবিত ছিলেন। নেতাজির এই মৃত্যু বিরোধ বসু পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও বিভাজন এনেছিল। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে সম্পর্কিত ১০০টি গোপন ফাইলের একটি ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন, যেগুলি এখন দিল্লির জাতীয় আর্কাইভে রয়েছে।