এবার জোড়াফুলে গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো! তৃণমূলে আরও ৭

এবার জোড়াফুলে গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো! তৃণমূলে আরও ৭
এবার জোড়াফুলে গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো! তৃণমূলে আরও ৭

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূলের নজর এবার গোয়ায়। তাই জল্পনা সত্যি করে, জোড়াফুলে যোগদান করলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো। তবে, প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক একাই নন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আরও ৭ কংগ্রেস নেতা।

আজই দুপুরে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিলেন গোয়ার অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা তথা গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো। তাঁর হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকেই তৃণমূল নেতা তথা সাংসদ সৌগত রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন যে, গোয়ায় তৃণমূলের সংগঠন আরও বিস্তৃত হতে চলেছে আগামীতে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন যে, গোয়ায় আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় নেতা আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করবেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে কংগ্রেস দলের হয়ে কাজ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ লুইজিনহো ফালেইরো। গোয়ার নাভেলিম কেন্দ্র থেকে সাত বার জিতে বিধায়ক হয়েছেন তিনি। দুবার মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছেন এই বর্ষীয়ান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা। এখানেই শেষ নয়, এর পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যে কংগ্রেসের সাংগঠনিক দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তাছাড়া অন্য রাজ্যে কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত করতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েই এই বর্ষীয়ান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘৪০ বছর ধরে একটা দল করার পর আজ ছেড়ে দিদির সঙ্গে রাজনৈতিক কেরিয়ারে নতুন যাত্রা শুরু করার একটাই কারণ। গোয়ার এখন যোগ্য, সুদক্ষ বিকল্প দরকার। গোয়ার অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে আমিই দিদিকে ওখানে আসতে অনুরোধ করেছি।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন যে, ‘কংগ্রেস আর আগের মতো নেই। কংগ্রেস ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। আমি চাই কংগ্রেসি পরিবার একত্রিত হোক। নিজের কংগ্রেসি আদর্শ নিয়েই কাজ করতে পারব বলে এখানে এসেছি।’

উল্লেখ্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে হঠানোর লক্ষ্যে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জেতার পরেই। ভিন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য টার্গেট করেছে সামনেই যেসব বিজেপিশাসিত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে সেই রাজ্যগুলিকে। আর তাই তৃণমূলের টার্গেটের তালিকায় রয়েছে ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ, কেরলের মতো রাজ্য। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় বহুবার গেছেন সংগঠনের কাজে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। ২০২৩-এ ত্রিপুরায় নির্বাচন রয়েছে। তার আগে সেখানে রাজনৈতিক জমি আরও মজবুত করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল। মাটি কামড়ে বিপ্লব দেবের রাজ্যে পড়ে রয়েছেন কুণাল ঘোষ থেকে শান্তনু সেনরা। একাধিকবার গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে বিজেপি সরকারকে উৎখাতের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, একই অবস্থা যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশেরও। পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার মতো সেখানেও সংগঠন গোছাতে জোর দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। যোগীর রাজ্যেও ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’, ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয়র ছবি দেওয়া ট্রফি নিয়ে হয়েছে ফুটবল ম্যাচও। এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূলের টার্গেট গোয়া। তৃণমূলের এবারের মিশন পশ্চিমের রাজ্য গোয়া।

আগামী বছর ৪০ আসনের গোয়া বিধানসভায় ভোট। তাই ত্রিপুরা এবং উত্তরপ্রদেশের মতো তালিকায় উঠেছে গোয়ার নামও। গোয়াও এবার তৃণমূলের পাখির চোখ। গোয়া বিধানসভা দখলের চেষ্টায় তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস ভেঙেই গোয়া উপকূলে ঘাসফুলের বিস্তারে কোমরবেঁধে নেমেছে তৃণমূল। দায়িত্বে আছেন সুখেন্দুশেখর রায়, বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, ডেরেক ও’ব্রায়েন। এদিকে ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তৃণমূলের লোগো এবং স্লোগান। ইতিমধ্যেই গোয়া জুড়ে হোর্ডিংয়ে জ্বলজ্বল করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। রাস্তায় ছেড়ে তৃণমূলের পতাকা। গোয়ানিজ ভাষায় লেখা হয়েছে শ্লোগান। আবার পানাজির গোয়া এয়ারপোর্ট এলাকাতে দেখা গেল রাস্তার ডিভাইডারে জোড়াফুল পতাকার সমাহার গোয়াতে ঘাসফুলের লোগো এবং স্লোগান আগেই প্রকাশিত। গোয়া তৃণমূলের জন্য আলাদা টুইটার হ্যান্ডেলও ইতিমধ্যেই খোলা হয়েছে। তাতে বলা হয়, ‘বিশ্বাসযোগ্যতাই আমাদের নেতা বাছাইয়ের মানদণ্ড। রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের জন্য দায়বদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন এমন নেতাই বেছে নেব।’

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই পশ্চিমের দ্বীপরাজ্যে রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে কাজ শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের টিম আই প্যাক। তাঁদের সদস্যরা গোয়া পৌঁছেছেন আগেই। শুক্রবার গেলেন দলের দুই সাংসদ। এ থেকেই স্পষ্ট, গোয়া নিয়ে মোটেই দেরি নয়, বরং ব্লুপ্রিন্ট ছকেই সেখানে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাই ত্রিপুরা, অসম, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটের পর এবার বিজেপিশাসিত গোয়ার দিকে এগোচ্ছে তারা। জানা গিয়েছে, আই প্যাকের ২০০ কর্মী ইতিমধ্যেই সমীক্ষা শুরু করেছে।