চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে বেসরকারিকরণে গতি আনতে চায় কেন্দ্র! ৫-৬ টি সংস্থার বেসরকারিকরণের ইঙ্গিত

চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে বেসরকারিকরণে গতি আনতে চায় কেন্দ্র! ৫-৬ টি সংস্থার বেসরকারিকরণের ইঙ্গিত
চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে বেসরকারিকরণে গতি আনতে চায় কেন্দ্র! ৫-৬ টি সংস্থার বেসরকারিকরণের ইঙ্গিত

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি অর্থবর্ষেই আরও ৫-৬ টি কেন্দ্রীয় সংস্থার বেসরকারিকরণের পথে কেন্দ্র সরকার। এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে। এই অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ভাগে এই বেসরকারিকরণে গতি আনতে চায় কেন্দ্রের মোদী সরকার।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের বাজেটে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল মোদী সরকার। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে যাওয়াও সম্ভব হয়নি চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ভাগে। তাই এই অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে আরও অন্তত ৫-৬ টি সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণকে টার্গেট করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় লগ্নি ও সরকারি সম্পত্তি পরিচালনা দপ্তরের সচিব তুহিনকান্ত পাণ্ডে।

চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বেসরকারিকরণ থেকে ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। কিন্তু অর্থবর্ষের ৭ মাস অতিবাহিত হলেও, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশও এই বেসরকারিকরণ থেকে আয় করে উঠতে পারেনি কেন্দ্র। এর ফলে সরকারি খরচ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে কেন্দ্র সরকারকে। বিশেষ করে করোনার ধাক্কা সামলাতে এখনও অনেক অর্থের প্রয়োজন কেন্দ্র সরকারের। যা এই বেসরকারিকরণের মাধ্যমে তুলে আনার পরিকল্পনা করেছিল কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যপূরণের লক্ষ্যেই মার্চ মাসের আগে প্রায় আধ ডজন কেন্দ্রীয় সরকারি সম্পত্তির বিলগ্নিকরণের চেষ্টা করবে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

কেন্দ্রীয় লগ্নি ও সরকারি সম্পত্তি পরিচালনা দপ্তরের সচিব তুহিন কান্ত পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘এই বছরই আমরা দেখব ৫-৬টি বেসরকারিকরণ। এখন আর বেসরকারিকরণের বিষয়টি সরকারের নীতির স্তরে সীমাবদ্ধ নেই। বাস্তবে সেই নীতি কার্যকর হচ্ছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিপিসিএল (BPCL), বিইএমএল (BEML), শিপিং কর্পোরেশন-সহ গোটা ৬ কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জন্য দরপত্র চাওয়া হবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই।

অন্যদিকে, তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী জানুয়ারিতেই প্রথমবার বাজারে আসতে পারে এলআইসির শেয়ারও। এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রির (Air India) প্রক্রিয়াই বাকি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হবে। যদিও এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত অর্থের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি কেন্দ্রের মোদী সরকার।

এদিকে কেন্দ্রের বেসরকারিকরণের এই তাড়াহুড়ো অনেকাংশে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এইসব সংস্থাগুলির কর্মীদের মধ্যে। পাশাপাশি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে একাধিক রাজ্য সরকারও। তবে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন শুধু কেন্দ্রের সম্পত্তিই বেচবে মোদী সরকার। কোনও রাজ্যের সম্পত্তিতে হাত দেওয়া হবে না।