চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! লকডাউন প্রসঙ্গে কী বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন?

চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! লকডাউন প্রসঙ্গে কী বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন?
চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! লকডাউন প্রসঙ্গে কী বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন? / ছবি সৌজন্যে- Screengrab-from-Facebook-Video-Posted-By-@nirmala.sitharaman

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল অবস্থা গোটা দেশের। কিন্তু তারপরেই সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে আর যাবে না দেশ। একথাই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

তাঁর কথায়, সরকার বড়সড় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে, করোনাবিধিতে আনা হবে কিছু পরিবর্তন। দেশজুড়ে কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ কড়া হবে। এক্ষেত্রে জোর দেওয়া হবে কনটেনমেন্টের ওপর। কিন্তু আর সম্পূর্ণ লকডাউনের রাস্তায় হাঁটবে না দেশ। পাশাপাশি রাজ্যগুলির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলছে কেন্দ্র সরকার।

বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের সঙ্গে সীতারামনের ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগান বৃদ্ধির জন্য ভারতকে দেওয়া ঋণ প্রদানের পরিধি বাড়ানোর জন্য আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অরথমন্ত্রক থেকে এক টুইট করে জানানো হয়েছে যে, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে কেন্দ্র যে যে পদক্ষেপ করতে চলেছে তাঁর মধ্যে রয়েছে টেস্ট-ট্র্যাক-ট্রিট-ভ্যাকসিনেসন এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধি পালন।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ‘লকডাউন জারি করলে, ব্যাপক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। অর্থনীতি পুরোপুরি থমকে যায়। সেই শোচনীয় অবস্থা আমরা চাই না। করোনা আক্রান্তদের নিয়ে অবশ্যই ভাবা হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উক্ত বৈঠকে বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে, দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি সবথেকে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। তাই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল মহারাষ্ট্র সরকার করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে। আগামী ১৫ দিনের জন্য মহারাষ্ট্রে জারি করা হল কার্ফু। আজ বুধবার রাত ৮ টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে রাজ্যজুড়ে।

এই পর্বে হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে৷ শুধুমাত্র অত্যাবশ্যক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বাস এবং লোকাল ট্রেন চলবে৷ খোলা থাকবে ব্যাঙ্ক পরিষেবা৷ পেট্রল পাম্প এবং সেবির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণকাজ করা হবে। হোটেল বা রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না। শুধু খাবার নিয়ে যাওয়া যাবে। হোম ডেলিভারিতে ছাড়পত্র মিলবে। রাজ্যের সমস্ত দরিদ্র মানুষের পরিবারে ৩ কেজি গম ও ২ কেজি চাল পৌঁছে দেবে সরকার।

মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত বৈধ বা উপযুক্ত কারণ ছাড়া কেউ রাস্তায় বেরোতে পারবেন না। এক জায়গায় পাঁচ জনের বেশি জড়ো হতে পারবেন না। যাবতীয় প্রতিষ্ঠান, পাবলিক প্লেস এবং পরিষেবা বন্ধ থাকবে। জরুরি এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। যে যে পরিষেবা এবং কাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেগুলি কর্মদিবসের সময় সকাল সাতটা থেকে সকাল আটটা বিনা বাধায় চালু রাখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, সপ্তাহান্তে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। সবজির বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন বিধি। আরও বলা হয়েছে, ভিড় ছাড়া সিনেমার শ্যুটিং চলবে, তবে বন্ধ থাকবে থিয়েটার। গণপরিবহনে মোট ক্ষমতার ৫০ শতাংশ যাত্রী তোলা যাবে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.