যৌতুক হিসেবে বাইক পাওয়া সম্ভব নয় জেনে, বিয়েই ভেস্তে দিল বর! অপমানে, লজ্জায় আত্মঘাতী কনে

যৌতুক হিসেবে বাইক পাওয়া সম্ভব নয় জেনে, বিয়েই ভেস্তে দিল বর! অপমানে, লজ্জায় আত্মঘাতী কনে
যৌতুক হিসেবে বাইক পাওয়া সম্ভব নয় জেনে, বিয়েই ভেস্তে দিল বর! অপমানে, লজ্জায় আত্মঘাতী কনে / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ বিয়ের সব কথাবার্তা হয়ে গেছে। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল জোর কদমে। কিন্তু শেষপর্যন্ত বিয়েটাই হল না। যৌতুকে দাবি অনুযায়ী, পছন্দের বাইক পাওয়া সম্ভব নয় জেনে, বিয়েটাই ভেস্তে দেয় হবু বর। আর সেই অপমানে এবং লজ্জায় নিজের জীবন শেষ করে দিলেন কনে।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁর উজহানি এলাকায়। মৃতার নাম শামা জাহান। সাকরি জঙ্গলের কাছে একটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন শামা। পাত্রের নাম আতিক। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উভয়ের বাড়িতে এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়েও ঠিক হয়।

কিন্তু শনিবার আতিক ও তার পরিবারের তরফে শামার বাড়িতে মোটরসাইকেল দিতে হবে বলে দাবি জানানো হয়। গ্রামের মোড়ল ও অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়ে এর পরই একটি বৈঠক করে দুই পরিবার। সেই বৈঠকেই শামার সঙ্গে বিয়ে ভেস্তে দেয় আতিক।

বৈঠকে শামার পরিবারের তরফে জানানো হয়, অনেক ছোটবেলাতেই শামার বাবা প্রয়াত হয়েছেন। পাঁচ সন্তানকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন শামার মা। দিল্লিতে গিয়ে দুই ভাই পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে রোজগার করে। তাঁদের পক্ষে বিয়ের খরচের পাশাপাশি পণ হিসেবে মোটরসাইকেল দেওয়া সম্ভব হবে না এই মুহূর্তে এমনটা জানানো হয়েছিল।

এই কথা জানার পরেই বিয়ে ভেস্তে দেয় আতিক। এরপর সোমবার সকালে শামার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। শামার বোন নিশা জানিয়েছেন, পরিবারের কারোরই এই বিয়েতে খুব একটা সম্মতি ছিল না। শুধুমাত্র শামার কথা ভেবেই এই বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল পরিবার, পাশাপাশি আতিকের দাবি মেটানো কষ্টকর তাঁদের পক্ষে জেনেও, বলা হয়েছিল, বিয়ের পর তার দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হবে। কিন্তু আতিক তাঁদের কোনও কথাই শোনেনি। আতিকের শেষ মুহূর্তের দাবি এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শামার জীবনও শেষ করে দিল।

এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, আতিক এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ড বিধির ৩০৬ ধারায় এবং পণ নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.