ক্রাইমদেশ

লড়াই শেষ হাথরাসের ‘গণ-ধর্ষিতা’র

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে জীবন-যুদ্ধের লড়াই শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন উত্তর প্রদেশের হাথরাসের ‘গণ-ধর্ষিতা’তরুণী। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে হাথরাসের গণ-ধর্ষিতা ওই তরুণীর।

সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ হাথরসের তরুণীকে গণ-ধর্ষণের পাশাপাশি তাঁর উপর নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। প্রথমে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (জেএনএমসি)-এ চিকিৎসা চলছিল তাঁর। সেখান থেকে ওই তরুণীকে স্থানান্তরিত করা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকালে সফদরজং হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ওই তরুণীর পরিবার সূত্রের খবর, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাড়ির কাছেই একটি জমিতে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে জমিতে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। বিকেলের দিকে ভাই বাড়িতে চলে যায়। মায়ের থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন ওই তরুণী। সেই সময় পিছন থেকে দিদিকে আক্রমণ করে কয়েক জন দুষ্কৃতী। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টানতে টানতে একটি বাজরা খেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নৃশংস অত্যাচার চালায় ও গণ-ধর্ষণ করে।

এর পর সাত দিন নিখোঁজ ছিলেন ওই তরুণী। তাঁকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তাঁর শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল। এমনকি তাঁর জিভ খুবলে নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তাঁকে।পরে মা খুঁজতে খুঁজতে মেয়েকে উদ্ধার করেন অচৈতন্য অবস্থায়। এর পর তাঁকে স্থানীয় এক হাসপাতালে ভরতি করা হয়। বেশ কিছু দিন সেখানে আইসিইউতে থাকার পর সোমবারই দিল্লির হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

গণ-ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছিল ওই তরুণীর উপর। প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে, এমনকি শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টাও করে দুষ্কৃতীরা। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউ-তে রেখে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দিল্লির হাসাপাতালে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সকালে সেখানেই মৃত্যু হয়েছে নির্যাতিতা ওই তরুণীর।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তারা অনেক দেরিতে তদন্তের কাজে নামে। যদিও এমন অভিযোগ মানতে চায়নি পুলিশ। ঘটনার বেশ কিছু দিন পর গ্রেফতার করা হয় চার জন অভিযুক্তকে। তারা বর্তমানে জেলেই রয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.

Back to top button