অন্যান্য

ল্যান্ডমাইন খুঁজে ইঁদুর পেল সোনার মেডেল! বাঁচিয়েছে হাজার হাজার প্রাণ

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ ভাবছেন এও কীভাবে সম্ভব! ইঁদুর কিনা খুঁজে বার করবে ল্যান্ডমাইন? যে ইঁদুর সবসময় নোংরা আবর্জনার মধ্যে, নর্দমার মধ্যে ঘুরে বেড়ায়, গৃহস্থের ঘরের জিনিস নষ্ট করে, সেই ইদুর-ই কিনা এতো বড় একটা অসাধ্যসাধন করছে!

হ্যাঁ এটাই বাস্তবে ঘটেছে। ল্যান্ডমাইন খুঁজে বার করে, কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে একটি বিশালাকার আফ্রিকান ইঁদুর। তবে এই ইঁদুর আপনার ঘোরে বা চারপাশে দেখা ইঁদুর নয়। আকারে বেশ বড়। সম্প্রতি এমন এক ইঁদুরের এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সোনার মেডেল দিয়ে সম্মানিত করা হল। দীর্ঘ কয়েক কয়েক দশকের দ্বন্দ্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলিতে প্রতি বছর ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের কারণে বহু মানুষের প্রাণ যায়।

এবার সেই ল্যান্ডমাইন খুঁজে দিয়ে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে বিশালাকার আফ্রিকান ইঁদুর মাগোয়া। তার কাজের জন্য ব্রিটিশ চ্যারিটি সংস্থা ভেটেরনারি পিপলস ডিসপেনসারি ফর সিক অ্যানিমলস (পিডিএসএ) এই প্রথমবার গোল্ড মেডেল দিয়ে পুরস্কৃত করেছে মাগোয়াকে। জানা যাচ্ছে, গত সাত বছর ধরে এই ইঁদুরটি প্রায় ৩৯ টি ল্যান্ডমাইন খুঁজে বার করেছে। যার মধ্যে ২৮ টি বিস্ফোরণ ঘটার আগেই। এই কাজের জন্য মাগোয়াকে বেলজিয়ামের সংস্থা এপোপো প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।

গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত আফ্রিকান ইঁদুর মাগোয়া
গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত আফ্রিকান ইঁদুর মাগোয়া

এই সংস্থার কর্মীরা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইঁদুরদের ট্রেনিং দিয়ে থাকে। কম্বোডিয়া, অ্যাঙ্গোলা, জিম্বাবুয়ে এবং মোজাম্বিকের মত দেশগুলিতে এই প্রশিক্ষিত ইঁদুরগুলিকে লুকিয়ে থাকা ল্যান্ডমাইন খোঁজার কাজে ব্যবহার করা হয়। এই দলের সবথেকে দক্ষ ছিল মাগোয়া। মাগোয়াকে অল্প বয়স থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করা হয়েছিল। কম্বোডিয়ায় মোতায়েনের আগে তাকে সব রকমভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

মাগোয়া প্রায় ১৪১,০০০ বর্গ মিটারের বেশি জমি থেকে ল্যান্ডমাইন খোঁজার কাজ করেছে। মাগোয়ার এই কৃতিত্বে গর্বিত তার ট্রেনাররাও। উল্লেখ্য, ২০০২ সাল থেকে বেসামরিক ক্ষেত্রে প্রাণীদের সাহসিকতা এবং ব্যতিক্রমী কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পিডিএসএ-এর স্বর্ণপদক দেওয়া শুরু হয়। সেই তালিকায় এই প্রথম ইঁদুর এই স্বীকৃতি পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করল। মাগোয়া যে কাজ করেছে তা মোটেও সহজ কাজ নয়, যথেষ্ট ঝুঁকি পূর্ণ এবং কঠিন। কিন্তু সে এই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছে।

ল্যান্ডমাইন সন্ধানে এতটাই দ্রুততার সঙ্গে মাগোয়া কাজ করেছে যে, ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনও টেনিস কোর্টের সম-আকারের জায়গা সাফ করতে পারে। অন্যদিকে যা একজন মানুষের ক্ষেত্রে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে ল্যান্ডমাইন খুঁজে পেতে চারদিন লেগে যেতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে পিডিএসএ।

মাগোয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সংস্থা এপোপো বেলজিয়ামে প্রতিষ্ঠিত এবং এর সদর দফতর তানজানিয়ায় অবস্থিত, মাগোয়ার মতো ইঁদুরদের প্রশিক্ষণ দেয় ল্যান্ডমাইনগুলিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক রাসায়নিকগুলির ঘ্রাণ সনাক্ত করতে এবং সেগুলি খুঁজে বের করতে। নিজের কৃতিত্বের মধ্যে দিয়ে মাগোয়া এখন অনেকের চোখেই নায়ক। হবে নাই বা কেন! নায়কের মতোই কাজ যে সে করেছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.

Back to top button