বাংলায় ভয়াবহ হচ্ছে করোনা! একদিনে নতুন করে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার

বাংলায় ভয়াবহ হচ্ছে করোনা! একদিনে নতুন করে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার
বাংলায় ভয়াবহ হচ্ছে করোনা! একদিনে নতুন করে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশের পাশাপাশি ভোটের আবহে বাংলাতেও ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে করোনা পরিস্থিতি। দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে প্রতিদিন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। এবার ভয় এবং উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ছুঁয়ে ফেলল। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮১৯ জন। যা দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে বাংলায় এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের।

তবে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে৷ যা গত কয়েকদিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি৷ ফলে টেস্ট বাড়ায় আরও বেশি সংখ্যক করোনা আক্রান্তকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে৷ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৭২। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪,৮০৫ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৫২। এই মুহূর্তে রাজ্যে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৩৮৬। বাংলায় সুস্থতার হার ৮৯.৮২ শতাংশ।

সংক্রমণের নিরিখে সবথেকে বেশি চিন্তা কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণা এই দুই জেলাকে নিয়ে। কলকাতায় একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২২৩৪ জন৷ আর উত্তর চব্বিশ পরগণায় সংখ্যা ১৯০০-র বেশি৷ গত চব্বিশ ঘণ্টায় কলকাতা এবং উত্তর চব্বিশ পরগণায় মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ১৩ জন এবং ১৫ জনের৷ তবে, এই দুই জেলার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, মালদহ, বীরভূমের মতো জেলাগুলিকে নিয়েও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে৷ কারণ এই জেলাগুলির কোনওটিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, কোথাও আবার তা ৫০০-র কাছাকাছি।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করেছে প্রশাসন। এমনকী, প্রয়োজনের ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে তাঁদের, সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় এমনটাই জানানো হয়েছে।

রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই করোনা চিকিৎসায় ২৫ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ৩৪০০। জানানো হয়েছে চলতি সপ্তাহের শেষে ৮০০০ বেড করোনার জন্য বরাদ্দ করা হবে।

১০ টা ইএসআই হাসপাতালে ৫০ টি করে মোট ৫০০ টি বেড কোভিডের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই সপ্তাহের শেষে আরও ৯০০ টি বেডের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, রাজ্যের সব জেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিরিয়াস নয়, এমন রোগীকে কলকাতায় রেফার করা যাবে না।

এছাড়াও কয়েকটি জেলার হাসপাতালকে নিয়ে একটি জোন তৈরি করা হয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে গঠিত একটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন মনিশ জৈন। পূর্ব পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম নিয়ে গঠিত জোনের দায়িত্বে এমভি রাও। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলাকে নিয়ে গঠিত জোনের দায়িত্বে থাকছেন সুরেন্দ্র গুপ্তা।

উল্লেখ্য, এই প্রথমবার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে কোভিড বেডের ব্যবস্থা করা হল। এই হাসপাতালে ২২০ টি বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রোগীর রাশ সামাল দিতে, ১২ টি পুলিশ হাসপাতালে ৩৪০ টি কোভিড বেডের ব্যবস্থা করা হছে। ২৮ টি হোটেলে ৬৫৮ টি রুম কোভিড আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ উঠছে, ভ্যাকসিন নিতে গিয়েও হয়রান হতে হচ্ছে বহু মানুষকে৷ কারণ অধিকাংশ সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালেই চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিন নেই বলে অভিযোগ৷ ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না অনেকেই৷

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.