আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সমস্ত হাসপাতালগুলিকে কোভিড মোকাবিলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নবান্নের

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সমস্ত হাসপাতালগুলিকে কোভিড মোকাবিলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নবান্নের
আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সমস্ত হাসপাতালগুলিকে কোভিড মোকাবিলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নবান্নের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশে এই মুহূর্তে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার। দেশের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যের করোনা পরস্থিতি বেশ জটিল। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হারও। সুস্থতার হারও বেশ কম। রাজ্যেও করোনার সংক্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

এই আবহে আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল মানুষ। করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্যেও শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। নবান্নের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে করোনা মোকাবিলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা শয্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। আগামী সপ্তাহ থেকে এই নির্দেশ লাগু হয়ে যেতে পারে।

নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, গত বছর করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে যে ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে, সেই দায়িত্ব ফের পালন করতে হবে। এর সঙ্গে ফের একবার সরকারি ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কর্মচারীর হাজিরার কথা বলা হয়েছে। যদিও এই ব্যবস্থা জারি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা শিথিল করা হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি কর্মীই উপস্থিত থাকছিলেন।

তবে এবার, করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পুরনো নির্দেশিকা বলবৎ করতে চলেছে রাজ্য। এর জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দফতর নির্দেশিকা জারি করেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, এদিন রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে বৈঠকে কোভিড পরীক্ষা ও মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ১ লক্ষ ১৫ হাজারের গণ্ডি। অথচ গত বছর যে সময়ে দেশে করোনার সংক্রমণ একেবারে চরম শিখরে ছিল। তখনও সংখ্যাটা এত বেশি ছিল না। এই নিয়ে গত চারদিনের মধ্যে তিনদিনে দেশের দৈনিক আক্রান্তের লক্ষাধিক পার করে গেছে। আর সংক্রমণের এই পরিমাণ বাড়বাড়ন্ত প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও স্পষ্ট করেছে। এই সংক্রমণের হার আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।

বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যা আগের দিনের থেকে প্রায় ১০ হাজার বেশি। আপাতত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৭৪ জন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আপাতত মোট মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। এই সংখ্যাটাও আগের দিনের থেকে অনেকটা বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ২৫৮ জন। যা দৈনিক আক্রান্তের থেকে অনেক কম।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যদপ্তরের নয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৭৮৩ জন নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এ রাজ্যে। মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। সুস্থতার সংখ্যা তুলনায় অনেক কম। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার কবল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৯৫৭ জন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কলকাতার। এখানে একদিনে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৩০ জন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.