‘আগে প্রমাণ করুন আপনি কতটা সৎ’! শুভেন্দুকে কটূক্তির জেরেই কী বহিষ্কৃত সুরজিৎ সাহা?

‘আগে প্রমাণ করুন আপনি কতটা সৎ’! শুভেন্দুকে কটূক্তির জেরেই কী বহিষ্কৃত সুরজিৎ সাহা?
‘আগে প্রমাণ করুন আপনি কতটা সৎ’! শুভেন্দুকে কটূক্তির জেরেই কী বহিষ্কৃত সুরজিৎ সাহা?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিজেপির হাওড়া জেলায় কোন্দল চরমে। শুভেন্দু অধিকারীকে ‘চোর’ বলে বিঁধলেন বিজেপির হাওড়া জেলার সভাপতি সুরজিৎ সাহা। তাঁর কথায়, নারদা কাণ্ডে শুভেন্দুকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। বিজেপির কোনও কার্যকর্তাকে নয়৷ আর তাঁর সংবাদমাধ্যমে এই মন্তব্যের কারণে, বিজেপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে দল বিরোধী মন্তব্য করায় এই সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, সুরজিৎ সাহার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, তাঁর এই মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছিলেন, কোনও অভিযোগ থাকলে, তা তিনি নেতৃত্বকে জানাতে পারতেন। দলের বাইরে আনা ঠিক হয়নি। প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল। আর এর পরেই এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

বিজেপির হাওড়া জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোটে কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কারণেই একুশের নির্বাচনে হাওড়া জেলায় বিজেপি হেরেছে বলে দাবি করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারীর সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে চ্যালেঞ্জের সুরে সুরজিৎ বলেন, ‘আগে প্রমাণ করুণ আপনি কতোটা সৎ। বিজেপিতে এসে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের যে বি-টিম তৈরি করছেন সেখানে হাওড়া কোনও কর্মকর্তা কাজ করে না।’

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিজেপির পুরনো কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই ক্ষোভ এদিন আরও বাড়িয়ে দেন শুভেন্দু নিজেই। পুরভোটের আগে মঙ্গলবার কলকাতা ও হাওড়া জেলাকে নিয়ে নির্বাচন কমিটি তৈরি করে বিজেপি৷ তখন বিধানসভা ভোটে হাওড়া জেলায় বিজেপির বিপর্যয়ের দায় কর্মীদের ঘাড়ে চাপান শুভেন্দু৷ তিনি বলেন, বিজেপি হাওড়ায় হেরেছে কারণ তৃণমূলের মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে দলের প্রার্থীদের যোগাযোগ ছিল৷

শুভেন্দুর মুখে এমন কথা শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হাওড়ার বিজেপি নেতারা। জেলার বিজেপি সভাপতি প্রকাশ্যেই তাঁকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘ছ’মাস আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে দলের কর্মীদের সততার সার্টিফিকেট চাই না৷ বরং তাঁকে প্রমাণ করতে হবে তিনি কত বড় সৎ নেতা ৷ নারদ কাণ্ডে তাঁকেই দেখা গিয়েছে টাকা নিতে ৷ বিজেপির কোনও কর্মকর্তাকে নয়৷’

শুধু শুভেন্দু অধিকারীই নয়। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা রথীন চক্রবর্তীকে একহাত নেন সুরজিৎ সাহা। তাঁর প্রশ্ন, হাওড়ার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান কেন রথীন চক্রবর্তীকে করা হল? তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘এটা ভারতীয় জনতা পার্টির জনতা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি তৈরি হয়েছে৷ শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বি-টিম তৈরি করতে চাইছেন৷ সেই টিমের অধীনে বিজেপির পুরনো নেতারা কাজ করবেন না৷ জেলা সভাপতির কথায়, দলে অনেক পুরনো নেতা আছেন যাঁদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে৷ তবুও এমন একজনকে মাথায় বসানো হল, যিনি নিজের বুথেও পর্যন্ত জিততে পারেননি৷ যাঁর বিরুদ্ধে চুরির বদনাম রয়েছে৷ কর্পোরেশনকে লুঠ করার অভিযোগ রয়েছে৷ সেই ‘চোরেদের সর্দ্দার’-এর অধীনে বিজেপির কার্যকর্তারা কাজ করবেন না’।