সতীত্বের প্রমাণ দিতে ফুটন্ত তেলের মধ্যে স্ত্রীর হাত ডোবাতে বাধ্য করল স্বামী! ভিডিওসহ

সতীত্বের প্রমাণ দিতে ফুটন্ত তেলের মধ্যে স্ত্রীর হাত ডোবাতে বাধ্য করল স্বামী! ভিডিওসহ / Image Source- Screengrab from Twitter Video Tweeted By @BHARATGHANDAT2
সতীত্বের প্রমাণ দিতে ফুটন্ত তেলের মধ্যে স্ত্রীর হাত ডোবাতে বাধ্য করল স্বামী! ভিডিওসহ / Image Source- Screengrab from Twitter Video Tweeted By @BHARATGHANDAT2

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় করে তুলেছে একটি ভিডিও। ভাইরাল সেই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রীয়ের সতীত্ব প্রমাণে তাঁকে ফুটন্ত গরম তেলে হাত ডোবাতে বাধ্য করছে স্বামী। যা দেখে নড়েচড়ে বসেছে তামাম নেটদুনিয়া। মারাত্মক এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের অসমানাবাদ এলাকায়। সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনেরও নজরে আসে তা। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

দেখুন ভিডিওটি-

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বেশ কয়েকদিন আগে। মহিলার স্বামী স্থানীয় অঞ্চলে গাড়ি চালান। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সেই স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান মহিলাটি। এরপর বেশ কয়েকদিন বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে খোঁজার চেষ্টা চালান সেই ব্যক্তি। চার দিন পর অবশেষে নিজেই বাড়িতে ফিরে আসেন সেই মহিলা। ফিরে আসার পর তিনি জানান, বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে ওসমানবাদ বাস স্টপেজে খাঁচাপুরীর বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময় চারটি ছেলে তাঁকে জোর-জবরদস্তী তুলে নিয়ে গিয়ে এক অচেনা জায়গায় বন্দী করে রাখে। চারদিন পর কোনওমতে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

একথা জানাজানি হওয়ার পর স্বামীটির মনে নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই তাঁকে নিজের সতীত্ব প্রমাণের জন্য অগ্নিপরীক্ষা দিতে বলা হয়। সেই পরীক্ষার নিয়ম অনুসারে, মহিলাটি ফুটন্ত তেলের মধ্যে থেকে পয়সা তুলে আনলেই একমাত্র প্রমাণ হবে তাঁর সতীত্ব। এমনকি গরম তেলের মধ্যে ২টি পাঁচ টাকার কয়েন ফেলে তা তুলে আনতে বাধ্যও করেন মহিলাটির স্বামী। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর হাত পুড়ে যায়। কয়েন দুটি তুলে আনতেও ব্যর্থ হন তিনি।

যদিও এরপর স্বামী তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ব্যবহার করেন, তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে সদ্য ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এই পুরূষতান্ত্রিক সমাজে আজও নারীদের স্থান ঠিক কোথায়! আজও নিজেদের অধিকার বা ‘সতীত্ব’ প্রমাণে সীতার মতো অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয় নারীকে। আর তা না করতে পারলেই সমাজ তাঁকে ব্রাত্য করে দেয়। নিজেদের প্রাপ্য সম্মানের জন্য আজও লড়াই চলে একাকী নারীর। তার মধ্যে কেউ হয়তো সফল হন। কেউ আবার ওই মহিলাটির মতোই মুখ বুজে মেনে নিতে বাধ্য হন সবটা। তবে এসব ঘটনা আজও বারবার একই প্রশ্ন তুলে ধরে। এই সবকিছু অন্যায়ের শেষ ঠিক কোথায়?

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.