“কিছুটা সফল” বনধ, প্রশ্নের মুখে পড়ছে বাম- কংগ্রেসের সাংগঠনের জোর

"কিছুটা সফল" বনধ, প্রশ্নের মুখে পড়ছে বাম- কংগ্রেসের সাংগঠনের জোর

বাংলায় “কিছুটা সফল” বনধ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধর্মঘটের সামান্য প্রভাব পড়লেও কলকাতা জনজীবন ছিল মোটের উপরে সচল। আর এতেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে বাম- কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষমতা।

শহর কলকাতায় দক্ষিণ অংশে বনধের অপেক্ষাকৃত বেশি প্রভাব পড়েছিল। ধর্মঘটের সমর্থনে বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকেরা ডায়মন্ড হারবার রোড অবরোধ করে। এছাড়া যাদবপুর, শ্যামবাজারের বেশ কয়েকটি জায়গা কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়। যদিও ধর্মঘটীদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। সেন্ট্রাল মেট্রো, চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনের শাটার খুলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে ফরওয়ার্ড ব্লকের কিছু নেতা। যদিও তাদের আটকে দেয় উর্দিধারীরা। এদিন ধর্মতলার মোড়ে টায়ার পুড়িয়ে বনধকে সমর্থন জানায় বামকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম এবং কৃষি আইন সহ নানান নীতি প্রতিবাদে এবং ৭ দফা দাবিতে ২৬ নভেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল কেন্দ্রের ইউনিয়নগুলি। এই ধর্মঘট সফল করতে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই দফায় দফায় কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল বাম-কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা। এদিন সকাল থেকেই ধর্মঘট সফল করতে আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল বাম কর্মী সমর্থকদের। ধর্মঘটের দিন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুধুমাত্র কলকাতাতেই মোতায়েন করা হয়েছিল পাঁচ হাজার পুলিশ।

এদিকে কিছু কিছু জায়গায় যেমন আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ধর্মঘট সমর্থনকারীদের, তেমনই বিপরীত দৃশ্যও উঠে এসেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে। এদিন মেদিনীপুর শহরে ধর্মঘটের সমর্থনকারীরা রাস্তায় ক্রিকেট খেলেন। যদিও পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

একাধিক জায়গায় রেল অবরোধ করা হয় ধর্মঘট সমর্থনকারীদের পক্ষ থেকে। শিয়ালদা শাখার দক্ষিণ বারাসাত, ব্যারাকপুর, ঢাকুরিয়া, চম্পাহাটি স্টেশনে ট্রেনের ওভারহেডের তারে কলাপাতা ফেলে অবরোধ করার চেষ্টা করা হয়। শিয়ালদা শাখায় সকাল থেকে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত ছিল। যদিও নিট পরীক্ষার্থীদের আবেদনে পর হুগলী স্টেশন থেকে অবরোধ তুলে নেন বাম কর্মীরা।

বনধ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপিকে নিশানা করে বাম নেতা মোহাম্মদ সেলিম জানান, তৃণমূল এবং বিজেপি একসঙ্গে ঘর্মঘটীদের বাধা দিয়েছে। যদিও কোনো লাভ হয়নি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.