নিম্নচাপের জের! কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলাবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি, এই জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভবনা

নিম্নচাপের জের! কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলাবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি, এই জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভবনা
নিম্নচাপের জের! কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলাবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি, এই জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভবনা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আলিপুর আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়েছে যে, আবহাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা এখনই মিটছে না। নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি চলবে এখনও কয়েকদিন পর্যন্ত। তার উপর ইতিমধ্যেই ওড়িশার গোপালপুর এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের কাছে গতকালই প্রবল বেগে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব। এরাজ্যে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও, এ রাজ্যে এই ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ পড়বে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলার উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

ঘূর্ণিঝড় গুলাব বাংলায় আছড়ে না পড়লেও, নিম্নচাপের জেরে মঙ্গলবার থেকে দুর্যোগের শুরু হবে দক্ষিণবঙ্গে। ইনিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই সাইক্লোনের প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই সমস্ত সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ঘূর্ণিঝড় এবং জোড়া নিম্নচাপের কারণে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। যারা কাঁচা বাড়িতে থাকেন, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুলবুল, আমফান এবং ইয়াসের ক্ষেত্রে সঠিক প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করার ফলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই আটকানো সম্ভব হয়েছে। এবারও তাই তেমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে দুপুর থেকে আবহাওয়ার অবনতি এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি৷ এদিকে সোমবার তাও কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বজ্র বিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টি হলেও মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার আরও অবনতি হওয়ার সম্ভবনা৷ বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টিতে ভাসবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ৷ মায়নামারের কাছে উদ্ভুত হওয়া নিম্নচাপের দরুণ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া. ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলায় এক বা দুই স্থানে মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে৷ উত্তরবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা নেই। হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর।

এদিকে, রবিবার সকাল থেকেই দিঘায় ঝলমলে আবহাওয়া থাকলেও, দুপুরের পর থেকে আকাশের মুখ ভার হতে শুরু করে। বৃষ্টিও হচ্ছে দফায় দফায়। বিকেল থেকে দিঘার সমুদ্র সৈকতে আর কোনও পর্যটককে ঘেঁসতে দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে দিঘায় মোতায়েন করা হয়েছে এনডিআরএফ। প্রশাসনের তরফে মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে কোনও হোটেলে বুকিং নেওয়া হবে না। ওই নির্দেশিকা কার্যকর থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যেসব পর্যটক আগে থেকেই হোটিল বুকিং করে রেখেছিলেন তাঁদের বুকিং বাতিল করে দিতে হবে বা বুকিং পিছিয়ে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বহু মৎস্যজীবী ইতিমধ্যেই ফিরে এসেছেন। তাঁদের নৌকাগুলিকে শক্ত করে বেঁধে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদী বাঁধ গুলির প্রতি সতর্ক নজর রাখতে বলা হয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলেও, তৎক্ষণাৎ তা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেচ দফতরকে।

আজ সকালে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। পরে আকাশ পুরোপুরি মেঘলা থাকবে, সঙ্গে বৃষ্টি। রাতের দিকে বৃষ্টি বাড়বে। সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ৯৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১২.৪ মিলিমিটার। কলকাতায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির মোকাবিলায়। এই কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকবেন একজন কমিশার এবং একজন ডি সি। পাশাপাশি বন্যা মোকাবিলার জন্যও সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।