বই পড়লেই শাস্তি মকুব! সারা বিশ্বে একমাত্র এই দেশের কারাগারেই রয়েছে এমন অভিনব নিয়ম

বই পড়লেই শাস্তি মকুব! সারা বিশ্বে একমাত্র এই দেশের কারাগারেই রয়েছে এমন অভিনব নিয়ম / প্রতীকী ছবি
বই পড়লেই শাস্তি মকুব! সারা বিশ্বে একমাত্র এই দেশের কারাগারেই রয়েছে এমন অভিনব নিয়ম / প্রতীকী ছবি

কথায় বলে, মানুষের সেরা বন্ধু হল বই। আর বই পড়তে কে না ভালোবাসে! কাজের ফাঁকে হোক অবসর যাপন, বইয়ের পাতায় মুখ ডুবিয়ে বাস্তব থেকে হারিয়ে যেতে উৎসুক অধিকাংশ মানুষই। কিন্তু বই পড়ে মন বা মস্তিষ্কের পুষ্টির থেকে যদি বেশি কিছু মেলে? ধরুন, বই পড়লেই অন্যায় করেও শাস্তির হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন যদি কেউ? হ্যাঁ, শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটাই সম্ভব সুদূর ব্রাজিলের কারাগারে। সেখানে বই পড়লেই শাস্তির মেয়াদ কমানোর সুযোগ পেয়ে যান কারাগারে বন্দী অপরাধীরা!

ব্রাজিলের ‘কাসা দে কাস্তোদিয়া দে পিরাকোয়ারা’ কারাগার এবং আরও তিনটি ‘ফেডারাল প্রিসন’-এ বন্দীরা বই পড়লেই মকুব হয়ে যায় শাস্তি। এক বছরে একজন বন্দী সর্বমোট ১২টি বই পড়তে পারেন সেখানে। অর্থাৎ প্রতিমাসে একটি করে বই পড়া যাবে। এর সুবাদে বই প্রতি ৪ দিন ও সর্বাধিক ৪৮ দিন কমে বন্দীর শাস্তির মেয়াদ।

এখানেই শেষ নয়! প্রতিটি বই পড়ার জন্য তাঁদের বরাদ্দ সময় ১ মাস। এর মধ্যে সকল বন্দী-পাঠককেই একটি করে প্রবন্ধ লিখে জমা দিতে হয়। কী থাকে তাতে? যে বইটি তাঁরা পড়ছেন তার মূল বিষয়, প্রিয় চরিত্র ইত্যাদি নানা বিষয়ে লেখা থাকে প্রবন্ধতে৷ তার ভিত্তিতে চলে পরীক্ষাও। সেই পরীক্ষার ফলাফলের উপরই নির্ভর করে শাস্তি মকুবের পরিমাণ।

ব্রাজিলে অভিনব এই উদ্যোগটি চালু হয় ২০১২ সালে। যার নাম ‘রিডেম্পশন থ্রু রিডিং’। কারাগারের মধ্যেই রয়েছে একটি ওপেন লাইব্রেরী। ইতিহাস, ভূগোল, ব্রাজিল এবং বিশ্বসাহিত্যের নানা ক্লাসিকস্‌, দর্শন, বিজ্ঞানবিষয়ক বইপত্র ইত্যাদি সবই মজুত সেখানে। আর পাঠকেরা প্রত্যেকেই দাগী অপরাধী। কিন্তু শাস্তি কমানোর আশায় প্রত্যেকেই বই পড়তে বেশ উৎসাহী। তাই রোজকার ভীড় লেগেই থাকে লাইব্রেরীতে। উদ্যোগটির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে দিন দিন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বের একমাত্র এই দেশের কারাগারেই চালু রয়েছে এমন নিয়ম।