শহরে ফের পাকড়াও ভুয়ো সরকারি অফিসার! ব্যক্তির নীল-বাতি গাড়ি বাজেয়াপ্ত

শহরে ফের পাকড়াও ভুয়ো সরকারি অফিসার! ব্যক্তির নীল-বাতি গাড়ি বাজেয়াপ্ত
শহরে ফের পাকড়াও ভুয়ো সরকারি অফিসার! ব্যক্তির নীল-বাতি গাড়ি বাজেয়াপ্ত

শহরে ফের একবার দেবাঞ্জন কাণ্ডের ছায়া। পুলিশের জালে পাকড়াও হলেন আরেক ভুয়ো সরকারি অফিসার। জানা গিয়েছে, একেক জায়গায় একের রকম পরিচয় দিতেন তিনি৷ ঘুরতেন নীলবাতি গাড়িতে৷ তাতে লাগানো থাকত সিবিআইয়ের স্টিকার। সোমবার রাতে গড়িয়াহাট থানার তরফে চেকিংয়ের সময়ে নীলবাতি গাড়িটিকে সন্দেহ হওয়ায় দাঁড় করানো হয়। তারপরই ধরা পড়েন ওই ব্যক্তি৷ গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির নাম সনাতন রায় চৌধুরী। বরানগরের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। পেশায় আইনজীবী ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিতেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে। অন্যদিকে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর পরিচয় ছিল সিবিআই স্পেশাল কাউন্সিলের সদস্য। সরকারি অফিসারের পরিচয় দিয়ে একাধিক জমি ও বাড়ি আত্মসাৎ করেছেন ওই ব্যক্তি। সোমবারও গড়িয়াহাট এলাকায় ১০ কোটির এক সম্পত্তি দখল করতে আসেন তিনি। তারপরই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

কিন্তু কীভাবে পুলিশের জালে জড়িয়ে গেলেন ওই ভুয়ো অফিসার? আসলে দেবাঞ্জন কাণ্ডের পর নীলবাতি গাড়ি নিয়ে শহরে ইতিমধ্যেই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রাস্তায় নীলবাতি গাড়ি দেখলেই চেক করা চলছে। সরকারি অফিসারদের আইডেন্টিটি কার্ড দেখতে চাওয়া হচ্ছে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেই তোলা হচ্ছে প্রশ্ন। সোমবার, খবর পেয়ে উত্তর কলকাতায় গিয়ে সনাতন রায় চৌধুরীর গাড়িকেও আটক করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি নিজেকে স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে মামলা লড়ার পাশাপাশি রাজ্যের হয়ে সিবিআইয়ের বিভিন্ন মামলা লড়েছেন বলেও দাবী করেন তিনি। তবে দু-এক কথার পরই পুলিশ বুঝে যায় পরিচয় ভাড়ানো হচ্ছে। সন্দেহ হতেই খোঁজ নেয় পুলিশ। তারপরই বেরিয়ে আসে ওই ব্যক্তি আসলে ভুয়ো। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সনাতন রায় চৌধুরীর নীল বাতি গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির পরিচয়পত্রও ছিল জাল। তাঁকে জেরা করে আরও অনেক তথ্য মিলেছে। আজ অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে বলেও খবর।