অতিমারীর কারণে কর্মহীন বাবা! সংসারের হাল ধরতে ‘জোম্যাটো ডেলিভারি গার্ল’ হয়ে উঠলেন কলেজছাত্রী

অতিমারীর কারণে কর্মহীন বাবা! সংসারের হাল ধরতে 'জোম্যাটো ডেলিভারি গার্ল' হয়ে উঠলেন কলেজছাত্রী
অতিমারীর কারণে কর্মহীন বাবা! সংসারের হাল ধরতে 'জোম্যাটো ডেলিভারি গার্ল' হয়ে উঠলেন কলেজছাত্রী

করোনার জেরে গত বছর থেকেই দেশে বাড়ছে কর্মহীনের সংখ্যা। করোনা মোকাবিলায় জারি করা লকডাউনের প্রভাবে কাজ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। একের পর এক কোম্পানি ছাঁটাই করছে কর্মী এমনকি গত বছরের তুলনায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়তো পরিবারের একমাত্র রোজগেরে৷ ফলে কাজ হারানোর কারণে অনিশ্চয়তায় মধ্যেই দিন কাটছে সেই মানুষগুলির পরিবারের।

সেরকমই আরেক ঘটনার কথা উঠে এল সংবাদমাধ্যমে। তবে এই কাহিনীতে কাজ হারানোর যন্ত্রণার পাশাপাশিই রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য দৃঢ় মানসিকতার প্রতিফলন। অতিমারীর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে বাবা৷ ফলে সংসারে নেমে এসেছিল অভাব এবং অনিশ্চয়তা। সংসারের হাল ধরতে তাই এবার জোম্যাটো ডেলিভারি গার্ল হয়ে উঠলেন কলেজছাত্রী বড় মেয়ে। খাবার ডেলিভারি করেই এখন সংসারের খরচ চালাচ্ছেন তিনি৷

ওড়িশার কটকের শৈলবালা মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া সোয়েন। বয়স মাত্র ১৮। কিন্তু এই বয়সেই জীবিকার জন্য পড়াশোনা শিঁকেয় তুলে পথে নামতে হয়েছে তাঁকে। বাবা ছিলেন এক ড্রাইভার। কিন্তু লকডাউনের কারণে কাজ হারান তিনি। ফলে পরিবারে মা-বাবা আর দুই বোনের দায়িত্ব এসে পড়ে বিষ্ণুপ্রিয়ারই হাতে। প্রথমদিকে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশন পড়াতে শুরু করেন এই কলেজছাত্রী। কিন্তু তাও লকডাউনের কারণে তার বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। তখনই বিষ্ণুপ্রিয়া সিদ্ধান্ত নেন তিনি জোম্যাটোতে কাজ করবেন।

সম্প্রতি জোম্যাটো (Zomato) ফুড ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিষ্ণুপ্রিয়া। এবং ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরিও জুটিয়ে নেন। বর্তমানে জোম্যাটোর সঙ্গে যুক্ত হয়েই খাবার ডেলিভারি করছেন বিষ্ণুপ্রিয়া। তিনি হয়ে উঠেছেন কটকের প্রথম মহিলা খাদ্য সরবরাহকারী এজেন্ট। তাঁর দিন শুরু হয়ে ছোট বাচ্চাদের টিউশনি পড়িয়ে৷ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা অবধি টিউশনি পড়ান তিনি। তারপরই খাবার ডেলিভারির কাজে বেরোন তিনি।

বিষ্ণুপ্রিয়ার দুই ছোট বোন এখনও পড়াশোনা করছে। তাদের পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি৷ পাশাপাশি সংসারের হালও এখন তাঁরই হাতে। তাঁর কাজের জন্য ইতিমধ্যেই সবার কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করে নিয়েছেন বিষ্ণুপ্রিয়া। সংবাদমাধ্যমে তাঁর জানিয়েছেন, তাঁর নিজের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতির চাপে সেই স্বপ্নে ভাঁটা পড়েছে। তবে তিনি মনে করেন কোনও কাজই ছোট নয়। তাঁর পরিবারকে সুখী রাখার জন্য সর্বদাই নিজের সেরাটা উজার করে দেবেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন ওড়িশার এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কলেজছাত্রী।