বাবুলের সভায় তাঁর গাওয়া ’এই তৃণমূল আর না’ বাজিয়েই কটাক্ষ বিজেপির! পাল্টা দিলেন গায়কও

বাবুলের সভায় তাঁর গাওয়া ’এই তৃণমূল আর না' বাজিয়েই কটাক্ষ বিজেপির! পাল্টা দিলেন গায়কও
বাবুলের সভায় তাঁর গাওয়া ’এই তৃণমূল আর না' বাজিয়েই কটাক্ষ বিজেপির! পাল্টা দিলেন গায়কও

‘বাংলা ছাড়ো তৃণমূল, এই তৃণমূল আর না…’, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে বিঁধে গান লিখেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি তখন গেরুয়া শিবিরের এক অন্যতম সক্রিয় সদস্য৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই গান। তবে তা এখন অতীত। ‘২১-এই পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে পা রেখেছেন রাবুল সুপ্রিয়। আর বর্তমান দলের হয়ে প্রচার করতে গিয়েই অস্বস্তির মুখে পড়লেন এই গায়ক তথা রাজনীতিবিদ।

শুক্রবার পুর নির্বাচনের প্রচারে ত্রিপুরার আগরতলায় গিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। আগরতলা পৌর নিগমের দুর্গা চৌমোহনীতে তৃণমূলের পৌরসভা প্রার্থীদের হয়ে একটি সভা করেছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল যুব নেত্রী সায়নী ঘোষও। এই সভা চলাকালীনই মঞ্চের পাশে একটি গাড়িতে রাখা লাউডস্পিকারে বাজানো হয় বাবুল সুপ্রিয়র সেই গান ‘দিদির পায়ে হাওয়াই চটি, ভাইরা সব কোটিপতি’। গানের মধ্যে বাবুলের গলায় তারস্বরে শোনা যায়, ‘এই তৃণমূল আর না’ কথাটিও। যা শুনে বেশ বিরক্তও বাবুল ও সায়নী।

যদিও এরপরই বিজেপিকে পাল্টা দিলেন বাবুলও। জন সভার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ভেবে দেখুন তাহলে যে ছেলেটি এই গানটা করেছিল সেই ছেলেটাই কেন দলটি ছেড়ে দিল।” তাঁর কথায়, “একটা দলের নেতারা কতটা অহঙ্কারী হলে বা কতটা দুর্বব্যহার করলে যে ছেলেটি এই গানটি করেছিল সে দলটা ছেড়ে দিতে পারে। আমি যে কাজটি করি সেটা হৃদয় থেকে করি। এই গানটা একটা অ্যাকনলেজমেন্ট। একবার ভাবুন দলটা সে সময় কতটা অহঙ্কারি ছিল যে আমার মতো একজন সাধারণ কর্মীও দুরছাই করে বেরিয়ে আসতে পারে।”

পাশাপাশি আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ এও বলেন, “লোকসভার সিট ছেড়ে দিয়ে দিদির জন্য কাজ করতে এসেছি। আমি একেবারে নিচুতলার কর্মী ছিলাম। আমি যদি দল ছেড়ে আসতে পারি তাহলে আর এই দলটার কিছু হওয়ার নয়।” পাশাপাশি বাবুলের বক্তব্য, তিনি এখন আর নিজের গাওয়া ওই গানটা শুনছেন না। বরং এবার এর থেকে আরও ভালো গান বানানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছেছে সেখানকার শাসক দল বিজেপির। এই সময় তৃণমূলের সভায় দলের প্রাক্তন সাংসদের গাওয়া এই গান বাজিয়ে কী বার্তা দিতে চাইল পদ্ম শিবির? যদিও অনেকেরই দাবি, গত দু’বছর ধরে বিজেপির সভায় সভায় ঝড় তুলেছিল ওই গান। এতদিন যেহেতু গেরুয়া শিবিরের প্রতিটি প্রচারেই ওই গান বাজানো হত তাই এদিনও প্রচারের জন্য তা বাজানো হয়৷ তবে তা কি নিছকই প্রচার নাকি তার পিছনে রয়েছে তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলার প্রচেষ্টাও? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে।