দেশের করোনা গ্রাফ আবার ঊর্ধ্বমুখী! গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ল সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা

দেশের করোনা গ্রাফ আবার ঊর্ধ্বমুখী! গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ল সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা
দেশের করোনা গ্রাফ আবার ঊর্ধ্বমুখী! গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ল সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেড় বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও, দেশ এখনও করোনার কবল থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তার মধ্যেই স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে দেশ। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে টিকাকরণের উপর। সম্প্রতি করোনার টিকার প্রক্রিয়াকে আরও সুগম এবং ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ‘হর ঘর দস্তক’ প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রকল্প অনুসারে এবার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার ভ্যাকসিন দিয়ে আসবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এদিকে, উৎসবের মরশুমেও দেশের করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সংক্রমণ ১০ হাজারের নীচে নামার পর ফের গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১৯৭ জন। গতকালের থেকে সংক্রমণ অনেকটাই বেশি। গতকাল দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮৬৫ জন। এদিকে, রিপোর্ট অনুযায়ী, মারণ ভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০১ জন। গতকালের থেকে মৃতের সংখ্যাও অনেকটাই বেশি। গতকাল দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৯৭ জন। আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা মঙ্গলবারের তুলনায় বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই সকলের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

দেশের কোভিড গ্রাফের শীর্ষে ৫ রাজ্য– কেরল, তামিলনাড়ু, বাংলা, মহারাষ্ট্র ও মিজোরাম। এর মধ্যে কেরলের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫১৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।

সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও, প্রতিদিনই একটু একটু করে কমছে অ্যাকটিভ কেস। সক্রিয় রোগীর নিম্নমুখী গ্রাফই আশার আলো দেখাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, দেশে অ্যাকটিভ কেস ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৫৫ জন। যা ৫২৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন বলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। হিসাব বলছে, গত ৪৪ দিনের তুলনায় দৈনিক পজিটিভিটি রেট কমেছে ২ শতাংশের কম এবং গত ৫৪ দিনের নিরিখে বুধবার ২ শতাংশের কম সাপ্তাহিক পজিটিভিটি রেট কমেছে। এই পরিসংখ্যানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিনই একটু একটু করে কমছে সংখ্যাটা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ মাস থেকে অর্থাৎ গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দেশে করোনা থেকে সুস্থতার হার। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সুস্থ হয়েছেন, ১২ হাজার ১৩৪ জন।

করোনা মোকাবিলায় প্রধান অস্ত্র টিকাকরণ। উৎসবের মরশুমে গতি হারিয়েছিল টিকাকরণ। যা ফের স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে জোরকদমে চলছে টিকাকরণের কাজ। ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে দেশের সমস্ত মানুষ অন্তত প্রথম ডোজ পান, সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে কেন্দ্র। রাজ্যগুলিকেও সেই মর্মে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি। বাংলায় অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রথম ডোজ টিকা পেয়ে গিয়েছেন ৮৪ শতাংশ নাগরিক। বাকিদের খুঁজে বের করে ১০০ শতাংশ ডোজ দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করবে পুরসভা।