ওমিক্রন আতঙ্কের মাঝেই ফের বাড়ল দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা!

ওমিক্রন আতঙ্কের মাঝেই ফের বাড়ল দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা!
ওমিক্রন আতঙ্কের মাঝেই ফের বাড়ল দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা! / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেড় বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও, দেশ এখনও করোনার কবল থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তার মধ্যেই স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা জারি রয়েছে। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে টিকাকরণের উপর। এদিকে, দেশের করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। তবে, ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছে দেশ। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে দেশ। দেশে এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণ ১০ হাজারের নীচে রয়েছে। তবে, মাঝে মাঝে চিন্তা বাড়াচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা। গতকাল সংক্রমণ কমার পাশাপাশি একধাক্কায় অনেকটাই কমে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। যা বেশ স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও বাড়ল করোনার দৈনিক সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা। এর পাশাপাশি করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন ভয় ধরাচ্ছে। এদিকে বুধবারই দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপ্রবণ দেশ থেকে মহারাষ্ট্রে আসা ৬ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। তাঁরা ওমিক্রন আক্রান্ত কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৫৪ জন। এই সংখ্যাটা আগের দিনের থেকে অনেকটাই বেশি। গতকাল দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৯০ জন। এখনও চিন্তায় রাখছে কেরলের কোভিড গ্রাফ।

অন্যদিকে, গতকালের পর ফের বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৭ জন। গতকাল দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ১৯০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিম্নমুখী অ্যাকটিভ কেস। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, অনেকটা কমেছে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা। এই মুহূর্তে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯৯ হাজার ২৩ জন। গতকালের থেকে অনেকটাই কম। গতকাল দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৫৪৩ জন। পরিসংখ্যান বলছে, ক্রমাগত সক্রিয় রোগীর সংখ্যার কম হওয়া কোভিড গ্রাফে বেশ বড়সড় উন্নতি বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। করোনার বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছন করোনাজয়ীরাই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ২০৭ জন। দৈনিক আক্রান্তের থেকে সুস্থতার সংখ্যা অনেকটাই বেশি।

করোনা মোকাবিলায় প্রধান অস্ত্র টিকাকরণ। উৎসবের মরশুমে গতি হারিয়েছিল টিকাকরণ। যা ফের স্বাভাবিক হচ্ছে। জোরকদমে চলছে টিকাকরণের কাজ। ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে দেশের সমস্ত মানুষ অন্তত প্রথম ডোজ পান, সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে কেন্দ্র। রাজ্যগুলিকেও সেই মর্মে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি। ইতিমধ্যে ১২৪ কোটি ১০ লক্ষ ৮৬ হাজার ৮৫০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন রাজ্যে খুলছে স্কুল-কলেজ। তবে, সংক্রমণের আশঙ্কায় জমায়েতে এখনও জারি নিষেধাজ্ঞা। এছাড়াও টিকাকরণের পাশাপাশি আগের মতোই চলছে টেস্টিংও। এদিকে সম্প্রতি আইসিএমআর (ICMR) জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকদের বুস্টার ডোজ দেওয়া নিয়ে প্রয়োজনীয় কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এখনও পাওয়া যায়নি। আইসিএমআরের মতে, জোড়া ডোজ হলেই তা করোনা প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট। সমস্ত নাগরিক যাতে দ্রুত ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজও পান, তা দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। ‘ওমিক্রন’ নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ফেরত মোট ৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁরা ওমিক্রন আক্রান্ত কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। দিল্লিতেও ঝুঁকিপ্রবণ দেশ থেকে ৪ টি বিমানে ১ হাজার ১৩ জন দিল্লি পৌঁছেছেন। তাঁদের সকলের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যদিও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত আসেনি। এদিকে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হল সিকিমে। ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

বিমানবন্দরগুলিতে বিশেষ সতর্ক জারি হয়েছে। রাজ্যগুলিকে নতুন কোভিডবিধি জারির জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। এই মুহূর্তে যাঁরা বিদেশ থেকে ফিরছেন, তাঁদের বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। কারও শরীরে ওমিক্রন বাসা বেঁধেছে কি না, জানতে দ্রুত সেই রিপোর্ট জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা চালুর কথা থাকলেও ওমিক্রন আতঙ্কে হয়ত তা ফের পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।