সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২

মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! ছেলের মরদেহ কাঁধে নিয়েই ২৫ কিমি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরলেন বাবা

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২২, ০৩:২৯ পিএম | আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২২, ০৩:২৯ পিএম

মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! ছেলের মরদেহ কাঁধে নিয়েই ২৫ কিমি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরলেন বাবা
মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! ছেলের মরদেহ কাঁধে নিয়েই ২৫ কিমি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরলেন বাবা

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল ছেলে। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীনই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে ছেলের দেহ ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য মেলেনি কোনও অ্যাম্বুলেন্স অথবা শবদাহ গাড়ি। তাই বাধ্য হয়ে ১৪ বছরের ছেলের দেহ কাঁধে তুলে পায়ে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন বাবা।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে। মৃতের নাম শুভম। বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার পর তাকে স্বরুপরানি নেহেরু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীনই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে শুভমের দেহ ছেড়ে দেওয়ার পর তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি কিছুই মেলেনি। স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়েন শুভমের বাবা বজরঙ্গি যাদব এবং তাঁর স্ত্রী।

ছেলের দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন বজরঙ্গি বাবু। তাদের অনুরোধ করেন একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনওরকম অ্যাম্বুলেন্স অথবা শবদাহ গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি। তিনি গাড়ি ভাড়া করেও দেহ গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই গাড়ির চালক প্রচুর ভাড়া দাবি করে বসেন। এদিকে বজরঙ্গি যাদব আর্থিক অনটনের শিকার। তাই গাড়ি ভাড়া করে ছেলের দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না।

অগত্যা কোনও উপায় না পেয়ে সাদা কাপড়ে মোড়া ছেলের দেহ তুলে নেন কাঁধে। পায়ে হেঁটেই রওনা দেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাড়ি পৌঁছন বজরঙ্গি। এমন দৃশ্য দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান পথচারীরা। তাদের একাংশ এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই হইচই পড়ে যায় নেটপাড়ায়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন রাজ্য মানবাধিকার কমিশন। তবে স্বরুপরানি নেহেরু হাসপাতালের শীর্ষ কর্তা অজয় সাক্সেনা ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালের কোনও যোগ নেই বলেই দাবি করেছেন।