রেল সফরে ফিরছে কাটলেট, বোনলেস চিকেন! মিলবে প্যান্ট্রি কার পরিষেবা, পাবেন ভাত-ডাল-রুটি সবই

রেল সফরে ফিরছে কাটলেট, বোনলেস চিকেন! মিলবে প্যান্ট্রি কার পরিষেবা, পাবেন ভাত-ডাল-রুটি সবই
রেল সফরে ফিরছে কাটলেট, বোনলেস চিকেন! মিলবে প্যান্ট্রি কার পরিষেবা, পাবেন ভাত-ডাল-রুটি সবই / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা অতিমারি কাটিয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে দেশ। সব ক্ষেত্রেই স্পেশাল থেকে নর্মাল হওয়ার পথে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় রেল পরিষেবাও নর্মাল হওয়ার পথে। ইতিমধ্যেই নোটিফিকেশন জারি করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আর এই স্পেশাল থেকে নর্মাল হওয়ার পথে পা রাখতেই স্বাদ ফিরছে ভারতীয় রেলের। ফলে এবার থেকে ভারতীয় রেলে আবারও পাওয়া যাবে চিকেন কাটলেট, বনলেস চিকেন। এখানেই শেষ নয়, মিলবে ভাত, ডাল, রুটি, স্ন্যাক্স যা চাই।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে, দীর্ঘকালীন লকডাউনের মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল প্যান্ট্রি কার পরিষেবা। শুধু দেওয়া হচ্ছিল রেডি টু ইট মিল। সেখানে ছিল নুডলস, পোহা-সহ বেশ কিছু বাছাই করা খাবার। এদিকে, প্যান্ট্রি কার পরিষেবা ফের চালু করার জন্য রেলের কাছে কিছুদিন আগেই অনুমতি চেয়েছিল আইআরসিটিসি। তাঁদের সেই আবেদনে সায় দিয়েছে রেল বোর্ড। জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিতে চলেছে রেল বোর্ড। এর আগে ক্যাটারিং পলিসি নিয়ে বৃহস্পতিবার একদফা বৈঠক হয়েছে।

আইআরসিটিসি’র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশিষ চন্দ্র জানিয়েছেন, ‘আবার এই পরিষেবা শুরু হলে দূরপাল্লার যাত্রীদের বিশেষ সুবিধা হবে। আবার তাঁরা ট্রেনের ভিতরেই তৈরি করা খাবার অর্ডার করে খেতে পারবেন। আমরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। আমাদের যে সব কিচেন আছে সেগুলির পরিকাঠামো দেখা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতিতে প্যান্ট্রি কার পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশজুড়ে। সংক্রমণের দিকে নজর রেখেই, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রেল। তারপর থেকে রেলে শুকনো খাবার মিললেও, তৈরি করা খাবার পাওয়ার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তবে, কিছুদিন আগেই-ক্যাটারিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ফলে অর্ডার দিয়ে মিলছিল নানা স্বাদের খাবার।

দেশজুড়ে প্রথম লকডাউন শুরুর পর থেকেই প্যান্ট্রি কার পরিষেবা তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেয় রেল। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রথম কয়েক মাস যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা বন্ধ ছিল। পরে, অবশ্য বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় রেল। তবে, সেই সমস্ত ট্রেনে প্যান্ট্রি কার থাকলেও রান্না হত না। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আইআরসিটিসি বিভিন্ন স্টেশনে শুকনো খাবার দেওয়ার পরিষেবা চালু করেছিল ই-ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে। অর্থাৎ, যাত্রীরা অনলাইনে খাবারের অর্ডার দিলে নির্দিষ্ট স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে সংশ্লিষ্ট কেটারিং সংস্থা সেই যাত্রীর কাছে খাবার পৌঁছে দিত।

এবার খুব তাড়াতাড়ি ই-ক্যাটারিংয়ের সঙ্গে রেলের পুরনো প্যান্ট্রি কার পরিষেবাও পেয়ে যাবেন যাত্রীরা। সাধারণভাবে ট্রেনের একটি প্যান্ট্রি কারে রাঁধুনি এবং ওয়েটার-সহ ২০ থেকে ৩০ জন কাজ করেন। কমবেশি ৩৫০ জোড়া দূরপাল্লার ট্রেনে প্যান্ট্রি কার পরিষেবা ছিল। এর মধ্যে আছে মেল, এক্সপ্রেস, সুপারফাস্ট, প্রিমিয়াম সার্ভিস ট্রেন রয়েছে। উল্লেখ্য ট্রেনের প্যান্ট্রিতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা রেলের স্থায়ী কর্মী নন। বেসরকারি ঠিকাদারের অধীনে তাঁরা কাজ করেন। তাই ফের এই পরিষেবা চালু হলে, তাঁদের রুজি-রোজগারের অনেকটাই সুরাহা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।