টানা ৭ দিন ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে রেলের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা! কোন সময়ে?

টানা ৭ দিন ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে রেলের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা! কোন সময়ে?
টানা ৭ দিন ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে রেলের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা! কোন সময়ে? / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতীয় রেল ফের করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে চলেছে। আর সেই জন্যই রবিবার থেকে আগামী সাতদিন রাতে ৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিট সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় করোনার জেরে রেল পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটে। পরে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই ফের চালু হয় পরিষেবা, কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই ফের রেল পরিষেবা ধাক্কা খায়। এর জেরে রেলকে স্পেশাল ট্রেন চালাতে হয়েছে। বন্ধ রাখতে হয়েছে লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি বহু রুটের দূরপাল্লার ট্রেনও। আর এই স্পেশাল ট্রেনের ভাড়া ছিল ৩০ শতাংশ বেশি।

রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১৪ এবং ১৫ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। আর এই অবস্থা চলবে ২০ ও ২১ তারিখ পর্যন্ত। রাত সাড়ে ১১ টা থেকে ভোর সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম বা পিআরএস। ভারতীয় রেলের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক করতে এবং করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে আগামী সাতদিন রাতে ৬ ঘণ্টার জন্য যাত্রী সংরক্ষণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। গতকাল রাত থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতীকী ছবি

জানা গিয়েছে, পরিষেবা বন্ধ থাকার সময় টিকিট কাটা যাবে না। এর পাশাপাশি ট্রেন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়েও জানতে পারবেন না যাত্রীরা, টিকিট বাতিলও করা যাবে না এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। বস্তুত অনলাইন বা অফলাইন কোনও ব্যবস্থাতেই মিলবে না টিকিট সংক্রান্ত কোনও পরিষেবা। তবে, ১৩৯ নম্বরে ফোন করে অনুসন্ধান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারবেন যাত্রীরা।

রেলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে সিস্টেমের উন্নতিকরণ এবং নতুন ট্রেন নম্বর সংযোজন করার কাজ চলবে। পাশাপাশি অতীত ও বর্তমান এক্সপ্রেস ট্রেনের বিপুল সংখ্যক যাত্রীর বুকিং তথ্য নথিবদ্ধ করার পরিকল্পনা রূপায়িত করা হবে রাতে, যাতে যাত্রী পরিষেবায় সামান্যতম সমস্যার সৃষ্টি না হয়।

রেলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, যাতে যাত্রীদের কোনও অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে জন্যই ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টার সময় বেছে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দিনের ব্যস্ত সময়ে পরিষেবা পাবেন যাত্রীরা। ফলে অপেক্ষাকৃত কম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে তাঁদের। এমনটাই মনে করছে রেল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে অনলাইনে টিকিট কাটতে স্বচ্ছন্দ বহু মানুষ। ফলে ছয় ঘণ্টা প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম বন্ধ থাকার ফলে অসুবিধায় পড়তে পারেন বহু মানুষ। এই সাতদিন যদি কোনও যাত্রী টিকিট কাটতে চান সেক্ষেত্রে তাঁকে সাড়ে ১১ টার আগে টিকিট কেটে নিতে হবে বা রিজার্ভেশন করে নিতে হবে। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার পর ফের কাটা যাবে টিকিট। পাশাপাশি, বাড়ানো হচ্ছে না রেলের ভাড়াও। তবে, টিকিট বাতিল করলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।