‘রাজনীতির মঞ্চে ভাষণ না দিয়ে কাজের কাজ করা উচিত মোদীর’, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ কংগ্রেসের

‘রাজনীতির মঞ্চে ভাষণ না দিয়ে কাজের কাজ করা উচিত মোদীর’, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ কংগ্রেসের
‘রাজনীতির মঞ্চে ভাষণ না দিয়ে কাজের কাজ করা উচিত মোদীর’, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ কংগ্রেসের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত। করোনার সংক্রমণের সঙ্গে যুঝতে যুঝতেই এসে পড়েছে আর এক বিপদ। যার নাম ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ বা কালো ছত্রাক। এই ছত্রাকের সংক্রমনেও এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আবারও সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। এই অবস্থায় দেশে করোনায় মৃতদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তাই নিয়েই মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করছে কংগ্রেস। সমালোচনা করতে ছাড়েনি আরজেডিও।

কংগ্রেসের বক্তব্য, ভাষণ নয়, আগে কাজ করে দেখাক মোদী। উল্লেখ্য, শুক্রবার বারাণসীর চিকিৎসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাঝেই কোভিডে মৃতদের কথা স্মরণ করে, আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। ছলছল চোখে গলা বুজে আসে তাঁর। করোনায় মৃতদের স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর এই কান্নাকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস বলেছে, ‘রাজনীতির মঞ্চে ভাষণ না দিয়ে, কাজের কাজ করা উচিত মোদীর।’

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে গলা বুজে এসেছিল মোদীর। আর সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে মোদীর সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস। টুইটারে মোদীকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা লিখেছেন যে, ‘যারা গুজরাতের সময় থেকে সাহেবকে চেনেন তাঁরা জানবেন যে, রাজনীতি না করতে এলে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন উনি।’ তিনি আরও বলেছেন যে, তাতে সিনেমাজগত উপকৃত হত। কিন্তু এখন দেশটা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গড়িমসি এবং অবহেলার অভিযোগ এনেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। দেশজুড়ে করোনা টিকাকরণে প্রধানমন্ত্রীর ঢিলেমির অভিযোগ এনেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সাম্প্রতিকের একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে, টুইটে মোদীকে সরাসরি সম্বোধন করে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ‘মিস্টার মোদী টিকাকরণ করুন! গড়িমসি করবেন না।’

ট্যুইটারে রাহুল যে প্রতিবেদনটি পোস্ট করেছেন, তাতে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের ৭০ শতাংশ জেলা প্রতি ১০০ জন নাগরিকের জন্য ২০ টিরও কম করোনা টিকার ডোজ পেয়েছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলাস্তরে জনসংখ্যার সরকারি হিসেব পাওয়া যায়নি৷ তবে, ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলার টিকাকরণের একটি হিসেব মিলেছে৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৭০ শতাংশ জেলা মানে মোট ৬৩৯টি জেলার মধ্যে ৪৪৮টি জেলা প্রতি ১০০ জন জনসংখ্যার জন্য ২০ টিরও কম কোভিড টিকা পেয়েছে৷

অন্যদিকে, ১৮৭ জেলার দুই-তৃতীয়াংশ ১০০ জন জনসংখ্যা পিছু ১০ টি ডোজ পেয়েছে৷ প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে যে, এই জেলাগুলি মূলত উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও তামিলনাড়ুর৷ এই তিন রাজ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি জেলা ১০০ জন জনসংখ্যার জন্য ১০ টি করোনা টিকার ডোজ পেয়েছে৷

শুধু যে কংগ্রেসই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তাই নয়, একইভাবে প্রধানমন্ত্রীকে করোনা এবং সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্রমণ করেছে আরজেডি। আরজেডি তরফ থেকে বলা হয়েছে ‘এই সমস্ত নাটক বন্ধ করা উচিত। আপনি কি জানেন না গঙ্গা বুজে আসছে! হাসপাতাল ভরে গিয়েছে। শ্মশান উপচে পড়ছে। কুমীরের কান্না কেঁদে উনি কোনও সমবেদনা পাবেন না। উনি তো মানুষ যখন মরে যাচ্ছে তখন ভোটের কাজে ব্যস্ত ছিলেন।’

উল্লেখ্য, প্রায় প্রতিদিনই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তেমনই, শুক্রবার সকালে বারাণসীর চিকিৎসক এবং প্যারামেডিকেল স্টাফদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই করোনায় মৃতদের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে প্রায় কেঁদেই ফেলেন তিনি।

বস্তুত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশজুড়ে মৃত্যুর হার যেমন বেড়েছে তেমণ সংক্রমণের হারও বাড়ছে। বিশেষ করে, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির অবস্থা আরও ভয়াবহ। আর এই পরিস্থিতির জন্যে কেন্দ্রের ব্যর্থতাকেই দায়ি করে আসছে বিরোধীরা শুরু থেকেই। বিরোধীদের দাবি, এভাবে ভাষণ এবং মিথ্যে আবেগ দেখিয়ে, প্রধানমন্ত্রী আর দেশের মানুষকে ভুলিয়ে রাখতে পারবেন না।