শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

মাঝ আকাশে সংঘর্ষ! মাটিতে আছড়ে পড়ল ২ ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমান, ৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২২, ১১:১৬ এএম | আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০২২, ১১:১৬ এএম

মাঝ আকাশে সংঘর্ষ! মাটিতে আছড়ে পড়ল ২ ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমান, ৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
মাঝ আকাশে সংঘর্ষ! মাটিতে আছড়ে পড়ল ২ ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমান, ৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এয়ার শো চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষ। সঙ্গে ঘটল বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যেই টুকরো টুকরো হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল দুটি বিমানই। এই ঘটনায় জেরে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬ জনের। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার ডলাস শহরে। জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোয়িং যুদ্ধবিমানগুলির একটি এয়ার শো চলছিল। সেই সময় মাঝ আকাশেই বোয়িং বি ১৭ বম্বার এবং বেল পি ৬৩ কিংকোবরা-র মধ্যেই ধাক্কা লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই দুটি বিমান ভেঙে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটে।

এই দুই বিমানে মোট ৬ জন ছিলেন। তাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ৬ জনই বিমান দুটির ক্রু সদস্য বলেই জানা গিয়েছে। এদিকে, ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভয়াবহ সংঘর্ষের মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, ডলাস শহরের এই এয়ার-শো চলাকালীন গোটা বিষয়টি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ভিডিওটি দেখে শিউরে উঠছে গোটা বিশ্ব। এদিকে, ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং FAA-র তরফে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ওই এয়ার শো দেখতে ডলাস শহরে হাজির হয়েছিলেন বহু দর্শক।

ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, পরিস্থিতি এমন হয় যে, দুই বিমানের চালকের কারোর পক্ষেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল না। দেখা যায় যে, অপেক্ষাকৃত ছোট বিমানটি ভেঙে নিচে পড়ে যাচ্ছে। আর অন্যটি জ্বলন্ত অবস্থায় দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটে ভয়ংকর বিস্ফোরণ। এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি কর্তৃপক্ষের তরফে।

এই দুর্ঘটনার পর, ডালাসের মেয়র এরিক জনসন টুইটারে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আপনারা অনেকেই দেখেছেন, এয়ার শো চলাকালীন আজ আমাদের শহরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। দুর্ঘটনা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে অনেক তথ্যই জানা যায়নি। ডালাস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও দমকল বাহিনীর সহযোগিতায় ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড গোটা ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বি-১৭ বোয়িং সংস্থার তৈরি একটি বোমারু বিমান। এতে মোট ৪টে ইঞ্জিন রয়েছে। ১৯৩৫ সালে প্রথমবার উড়েছিল এই বিমান। ১৯৩৮ সাল থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীতে কাজ শুরু করে এই বোমারু বিমানটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মানিকে যুদ্ধে নাস্তানাবুদ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এই যুদ্ধবিমানটি। তবে, ১৯৬৮-তে এই বিমানগুলিকে বাতিল করে দেয় আমেরিকা। তবে, এই সিরিজের বিমান দিয়েই জাপানের হিরোসিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিল আমেরিকা।

আবার অন্যদিকে, যে বিমানটির সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে তার নাম বেল-পি ৬৩ কিংকোবরা- এটি ফাইটার জেট। কিং কোবরা এর পোশাকি নাম। এটিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলেই আত্মপ্রকাশ করেছিল। ১৯৪২ সাল থেকে এটি মার্কিন সেনাবাহিনীতে রয়েছে। তবে, এটিও বর্তমানে অবসর নিয়েছে। এই ধরণের বিমান মূলত সেই সময় ব্যবহার করত সোভিয়েত রাশিয়া। সে অর্থে দু’টি বিমানই ভিনটেজ। সে অর্থে দেখতে গেলে দুটি বিমানেরই ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।