বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

পাশাপাশি দুই ট্রেনে বাবা-ছেলের সাক্ষাৎ! অমূল্য মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করলেন ছেলে

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২২, ০২:২৭ পিএম | আপডেট: জুন ১৭, ২০২২, ০২:২৭ পিএম

পাশাপাশি দুই ট্রেনে বাবা-ছেলের সাক্ষাৎ! অমূল্য মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করলেন ছেলে
পাশাপাশি দুই ট্রেনে বাবা-ছেলের সাক্ষাৎ! অমূল্য মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করলেন ছেলে

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আমারা প্রত্যেকেই জীবনে এমন কিছু মুহূর্তের সাক্ষী থাকি যা কোনও মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না। অচিরেই তা আমাদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। এবার এমনই এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন বাবা ও ছেলে। এমন বিরল মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী না করলে কি থাকা যায়? সঙ্গে সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করলেন ছেলে।

বাবা রেলের অন ডিউটি ওয়ার্কিং গার্ড। অন্যদিকে ছেলে রেলের জুনিয়র টিকিট পরীক্ষক। বাবা ও ছেলে দুজনেই রেলকর্মী হওয়ায় ডিউটি চলাকালীন দুজনের খুব একটা সাক্ষাৎ হয় না বললেই চলে। কিন্তু আচমকাই একদিন কাজের মাঝেই দেখা হয়ে যায় বাবা-ছেলের। এমন অমূল্য মুহূর্ত আজীবন ধরে রাখতে তৎক্ষণাৎ ক্যামেরাবন্দি করেন ছেলে।

বাবা ও ছেলে দুজনেই তখন ডিউটিতে ছিলেন। বাবা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেসে বাংলাদেশের খুলনা থেকে চিলাহাটি যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে ছেলে দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুর হয়ে যাচ্ছিলেন রাজধানী ঢাকার অভিমুখে। বাবার ট্রেন তখন ফুলবাড়ি রেলস্টেশন সবেমাত্র অতিক্রম করেছে। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন ট্রেনের একেবারে শেষ প্রান্তের গার্ড রুমে। উল্টোদিক থেকে আসছিল ছেলে ওয়াসিবুর রহমান শুভর ট্রেন। কাকতালীয়ভাবে ফুলবাড়ী স্টেশন ক্রসিংয়ে ট্রেন দুটি পাশাপাশি আসতেই দেখা হয়ে যায় তাঁদের।

বাড়িতে তাঁদের প্রতিদিন দেখা হলেও কাজের মাঝে এই সাক্ষাৎ একটু হলেও অন্যরকম ছিল। খুব স্বল্প সময়ের সাক্ষাতই ফ্রেমবন্দি করে ফেলেন ওয়াসিবুর। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘বাবা ও আমি, ফুলবাড়ি স্টেশনে ক্রসিং চিলাহাটিগামী সীমান্ত এবং ঢাকাগামী দ্রুত যান এক্সপ্রেস।’

যদিও ঘটনাটি ২০১৯ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়কার। ওয়াসিবুর-এর শেয়ার করা ছবিটি সেই সময় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাবা-ছেলের এই বিরল মুহূর্তের ছবি মন কেড়ে নিয়েছিল নেটিজেনদের। সেই ছবিই ফের নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ছবিটি পুনরায় শেয়ার করা হলে নিমেষের মধ্যে উপচে পড়ে লাইক ও কমেন্ট। কেউ মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান সেলফি’। কেউ আবার লেখেন, ‘এই মুহূর্ত কোনও মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না’।